কীর্তিমান শিক্ষাবিদ মাওলানা আবু নাসের ওয়াহেদ

আঠারো-উনিশ শতকে আধুনিক শিক্ষার প্রতি বাঙালি মুসলমানের বৈরীভাব, অনাগ্রহতা এবং ক্ষেত্রবিশেষ বিদ্বেষ একটি ঐতিহাসিক তত্ত্ব— এ ভয়ানক সমস্যা থেকে বাঙালি মুসলমানকে বের করে আনতে ইংরেজরা একেবারেই চেষ্টা করেনি, এ কথা বললে মিথ্যা বলা হবে। ইংরেজদের অল্পবিস্তর চেষ্টার সর্বোৎকৃষ্ট সাক্ষ্য হিসেবে হাজির হয় মাদ্রাসা শিক্ষার নতুন পদ্ধতি ‘নিউ স্কিম’। এই নিউ স্কিম মাদ্রাসার প্রাণপুরুষ শামছুল ওলামা মাওলানা আবু নাসের ওয়াহেদ। এই কীর্তিমান শিক্ষাবিদকে নিয়েই আজকের আলোচনা।

 

১৯১২ সালের ৪ এপ্রিল ভারত সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাব মঞ্জুর করে এবং তাতে আলাদা ‘ইসলামিয়াত বিভাগ’ চালু করা যায় কিনা তজ্জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটির ক্রমানুসারে পঞ্চম ব্যক্তিটি মাওলানা আবু নাসের ওয়াহেদ। তাঁর একক প্রচেষ্টাতেই ১৯১৩ সালে স্যার রবার্ট নাথানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কনফারেন্সে মাদ্রাসার নতুন শিক্ষাপদ্ধতির প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবে ছিল:

 

জুনিয়র ক্লাসসমূহের জন্য: উর্দু, বাংলা, অংক, ভূগোল, ইতিহাস, ইংরেজি, আরবী, সাহিত্য, ড্র‌ইং, হস্তশিল্প ও ড্রিল ইত্যাদি।

সিনিয়র ক্লাসসমূহের জন্য: আরবী সাহিত্য, ইংরেজি ও অংকের উপর সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ।

 

কিন্তু ইতিহাসের দলিল-দস্তাবেজ ঘাঁটাঘাঁটি করলে দেখা যায়, ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পরপরই আবু নসর ওয়াহেদ মাদ্রসা শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার-সাধনের জন্য শ্রম-বুদ্ধিবৃত্তিক-সাধনা শুরু করেন। ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-মাসুমের ‘ব্রিটিশ আমলে বাংলার মুসলিম শিক্ষা সমস্যা ও প্রসার’ নামক আকরগ্রন্থে দেখি: “আবু নসর ওহীদের পরিকল্পনার ভিত্তিতেই বাংলার মাদ্রাসা শিক্ষায় আমূল পরিবর্তনের সূচনা ঘটে। আবু নসর ওহীদ মনে করেন মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমকে বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তিত ও সময়োপযোগী করতে হলে মিশর, সিরিয়া, ফিলিস্তিন প্রভৃতি যেসব দেশে আরবি মাতৃভাষা হিসেবে প্রচলিত সেসব দেশের আরবি শিক্ষাদানের পদ্ধতি অনুধাবন করা প্রয়োজন। এই উদ্দেশ্যে তিনি ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানসমূহও পরিদর্শনের  সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর ধারণা প্রাচ্য ও প্রাতীচ্য- এই উভয় শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ না করলে তাঁর পক্ষে মাদ্রাসা সংস্কার সম্বন্ধে উপযুক্ত পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে না। নব প্রদেশের লে. গভর্নর ফুলারও আবু নসরকে এ ব্যাপারে উৎসাহিত করেন। তাই তিনি সরকারের নিকট থেকে শিক্ষাছুটি নিয়ে ফিলিস্তিন, সিরিয়া, মিশর, তুরস্ক, জার্মানি, ফ্রান্স প্রভৃতি দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শন করে ১৯০৮ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং মাদ্রাসা শিক্ষার সংস্কার কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

 

অতঃপর ‘পূর্ববাংলার মুসলিম নেতৃবৃন্দের দাবির প্রেক্ষিতে ১৯০৯ সালে সরকার নব প্রদেশের শিক্ষা পরিচালক হেনরি শার্পের সভাপতিত্বে আরেকটি মাদ্রাসা সংস্কার কমিটি গঠন করেন। এ কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে নবাব সলিমুল্লাহ, নবাব আলী চৌধুরী, আবু নসর ওহীদ প্রমুখের নাম উল্লেখ্য। ১৯০৯ সালের ২৪ ও ২৭ জানুয়ারি এই কমিটির প্রথম অধিবেশন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়। এ অধিবেশনে আর্ল পরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয় এবং ইংরেজিকে বাধ্যতামূলক করাসহ এটিকে আরও আধুনিকীকরণের প্রস্তাব পেশ করা হয়। এ সকল প্রস্তাব- পর্যালোচনায় আবু নসর ওহীদ মুখ্য ভূমিকা গ্রহণ করেন। তিনি দেশ-বিদেশের বিখ্যাত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের পূর্ব অভিজ্ঞতাস্বরূপ ও উপস্থিত সকলের সাথে সুদীর্ঘ আলোচনার পর প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ পর্যায় পর্যন্ত ১৮ বছর ব্যাপী স্বয়ংসম্পূর্ণ জাতীয় শিক্ষা প্রকল্পের পরিকল্পনা পেশ করেন। প্রকৃতপক্ষে এ প্রকল্পটি ছিল ঐতিহ্যময় ইসলামি শিক্ষা ও আধুনিক পাশ্চাত্য শিক্ষার সমন্বয় সাধনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, যার উচ্চতম শিখরে থাকবে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়। অতঃপর কমিটির সভাপতি ও শিক্ষা পরিচালক শার্প এই পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে একে ‘বিপ্লবাত্মক’ (revolutionary) বলে মন্তব্য করেন। তিনি অভিমত পেশ করেন যে, উত্তর ভারত ও পশ্চিম বাংলার উলেমা ও মুসলিম নেতৃবৃন্দ এবং পূর্ববাংলার আঞ্জুমানে ইসলামিয়ার (মুসলমানদের সভা সমিতি) সাথে আলোচনা করে তাদের মতামত গ্রহণ না করা পর্যন্ত এ স্কিম প্রবর্তন করা সমীচীন হবে না। তবে তিনি বলেন যে, এই স্কিম পরীক্ষামূলকভাবে কোনো বেসরকারি মাদ্রাসায় প্রবর্তন করা যেতে পারে। যদি তা যথার্থভাবে ফলপ্রসূ হয় তবে ক্রমান্বয়ে অন্যান্য মাদ্রাসায়ও তা চালু করা হবে। শার্পের এ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ১৯০৯ সালের আগস্ট মাসে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও হুগলি মাদ্রাসায় এই নতুন স্কিম প্রবর্তন করা হয়। অপরদিকে, আবু নসর ওহীদ এই স্কিম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করার ব্যাপারে মতামত ও পরামর্শ নেয়ার প্রয়োজনে দেওবন্দ, লক্ষ্মী, রামপুর প্রভৃতি স্থানে উলেমা ও মুসলিম নেতৃবৃন্দের সাথে দীর্ঘ আলোচনা করেন এবং বাংলার মুসলিম প্রাদেশিক সভা-সমিতির মতামতও গ্রহণ করা হয়। সকলেই এই পরিকল্পনা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রবর্তনের অনুমতি দেন। অতঃপর ১৯১০ সালের ১১ ও ১২ মার্চ শিক্ষা কমিটির অধিবেশন পুনরায় শুরু হয় । অধিবেশনে সকলের সম্মতিক্রমে আবু নসরের প্রস্তাবিত মাদ্রাসা স্কিমটি আরও সূক্ষ্মভাবে পরিমার্জন ও সংশোধন করা হয়।’

 

‘মাদ্রাসা শিক্ষার এই নব প্রণীত পরিকল্পনাটি ১৯১৩ সালের মার্চ মাসে পুনরায় নাথনের সভাপতিত্বে একটি সম্মেলনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সরকারের নিকট অনতিবিলম্বে বাস্তবায়নের জন্য জোর দাবি জানানো হয়।১০ অতঃপর এই স্কিম সরকারের বিশেষ মনঃপুত হয় এবং ১৯১৪ সালের ৩১ জুলাই বাংলা সরকারের এক ঘোষণার মাধ্যমে ‘রিফর্মড মাদ্রাসা স্কিম’ অনুমোদিত ও গৃহীত হয়।১১ ১৯০৬ সালে ঢাকায় মাদ্রাসা সংস্কার কমিটি গঠনের পর আবু নসর ওহীদ যে উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন তা প্রায় দশ বছর পর ‘রিফর্মড মাদ্রাসা স্কিম’ বা ‘নিউ স্কিম মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সফলতা লাভ করে। ওহীদের পরিকল্পনাকে শার্প কমিটি ও নাথন কমিটি কিছুটা রদবদল করেছিল সত্য কিন্তু তাতে মূল পরিকল্পনার খুব বেশি পরিবর্তন হয় নি, কেননা পরবর্তী ঐ দুটি কমিটিতেও ওহীদ সদস্য ছিলেন এবং সক্রিয় ভূমিকাই পালন করেছিলেন।’১২

 

মাদ্রাসার এই নতুন শিক্ষাপদ্ধতি (নিউ স্কিম) সরকার মঞ্জুর করে, ১৯১৪ সালের ৩১ জুলাই। ১৯১৫ সালের পহেলা এপ্রিল এই নিউ স্কিম মাদ্রাসা প্রবর্তন হয়। সরকার কর্তৃক ঘোষণাপত্রে বলা হয়: “এই নতুন সংস্কার অনুযায়ী যেসব মাদ্রাসা পুরনো রীতির পাঠ্য ও শিক্ষা পদ্ধতি চালু রাখিবে সেসব প্রতিষ্ঠানকে সরকারী সাহায্য হ‌ইতে বঞ্চিত করার জন্য চেষ্টা করা হ‌ইবে। যেসব মাদ্রাসা এই নূতন স্কীম যথারীতি তাড়াতাড়ি কার্যকরী করার জন্য আগাইয়া আসিবে সরকারী সাহায্যের ব্যাপারে ঐ মাদ্রাসাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হ‌ইবে। এই সব মাদ্রাসায় কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষক মণ্ডলীর‌ও বন্দোবস্ত থাকিতে হ‌ইবে।”১৩

 

আধুনিক এবং ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে এই নিউ স্কিম পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে বাঙালি মুসলমান আধুনিক শিক্ষার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। গবেষক ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-মাসুম তাঁর এম.ফিল. থিসিসে লিখেছেন: “সরকার সাধারণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পূর্ণ ধর্মীয় শিক্ষা চালু না করলেও মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনীকিকরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন যা আমরা দেখতে পাই ১৯১৪ সালে ‘নিউস্কিম মাদ্রাসা কোর্স’ প্রবর্তনের মাধ্যমে। এ কোর্সে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি ইংরেজি ভাষা ও আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ফলে অতি অল্প সময়ে এ শিক্ষা পদ্ধতি মুসলিম সমাজে জনপ্রিয়তা লাভ করে।”১৪ অন্যত্র তিনি লিখেছেন: “বস্তুত নিউ স্কিম পদ্ধতি ছিল ইসলামভিত্তিক একটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা। ধর্মীয় শিক্ষা ও লোকায়ত শিক্ষার সমন্বয়ে রচিত এ স্কিমের পাঠ্যসূচি মুসলিম অভিভাবকদের পুলকিত করেছিল। এই শিক্ষার ফলে কয়েক বছরের মধ্যে মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার যে অগ্রগতি ঘটে বিগত এক শতাব্দীর পরিসংখ্যানেও তার প্রমাণ মেলে না। এই শিক্ষার মাধ্যমেই মাদ্রাসাগুলাতে সর্বপ্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষায় অঙ্গীভূত হয়। বলা যায়, মুসলিম সমাজে উচ্চ শিক্ষার বিস্তারে নতুন মাদ্রাসা সংস্কার পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিসীম।১৫ এই শিক্ষা ব্যবস্থা এত দ্রুত গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছিল তার প্রমাণ নিউ স্কিমের প্রথম পাঁচ বছরেই খুঁজে পাওয়া যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ডামাযোল, যুদ্ধোত্তর খিলাফত-অসহযোগের মত রাজনৈতিক উত্তেজনা, সামাজিক অস্থিরতা ও সর্বোপরি অর্থনৈতিক মন্দার কারণে সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের উন্নয়নে কর্মকাণ্ড যখন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, এমনকি মাধ্যমিক পর্যায়ে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে স্কুলগামী ছাত্রসংখ্যা প্রায় এক চতুর্থাংশ হ্রাস পেয়েছে,১৬ তখনও নিউ স্কিমের ছাত্রসংখ্যার বৃদ্ধি ধীর গতিতে হলেও অব্যাহত রয়েছে।”১৭

 

মাদ্রাসা শিক্ষায় নিউ স্কিম পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে মাওলানা আবু নাসের ওয়াহেদ বাঙালি মুসলমানের খুব বড়ো উপকার করেছিলেন— তাঁর প্রস্তাবিত ও প্রবর্তিত এ শিক্ষা-পদ্ধতির মাধ্যমেই আধুনিক শিক্ষার প্রতি বাঙালি মুসলমানের অনাগ্রহী ও বিদ্বেষী ভাব আস্তে আস্তে কমতে শুরু করে। খ্যাতিমান সাংবাদিক ও সাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দীন তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন: “১৯২৩ সালের কথা। অবস্থাপন্ন কৃষকেরা তখন লেখাপড়া শেখার প্রয়োজন কিছু কিছু উপলব্ধি করাও শুরু করেছেন। দুনিয়া ও আখেরাত উভয় লোকের সমস্যার সমাধান নিউ স্কিম মাদ্রাসা। এ ধরনের বিদ্যালয় কৃষকসমাজকে বেশি করে আকৃষ্ট করছিল। আজ যখন সেদিনের কথা ভাবি, তখন মনে হয়, আবু নাসির ওয়াহিদ আই. ই. এস. নিউ স্কিম মাদ্রাসা সিস্টেম প্রবর্তন করে তৎকালীন মুসলিম সমাজের যথেষ্ট উপকার করেছিলেন। দুনিয়া আখেরাতের সমন্বয় সাধনের ফলে মুসলিম সমাজের দৃষ্টি আধুনিক শিক্ষার দিকে আকৃষ্ট হয়। … শামসুল ওলামা ম‌ওলানা আবু নাসির ওয়াহিদ আই. ই. এস. প্রবর্তিত নিউ স্কিম মাদ্রাসা বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। নিউ স্কিম মাদ্রাসায় ছেলেদের মধ্যে অনেকে পরবর্তী জীবনে পাণ্ডিত্য খ্যাতি দুই-ই অর্জন করেছিলেন। পরলোকগত ডক্টর আবু মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, অধ্যাপক আবুল ফজল, অধ্যাপক ডক্টর আবদুল হাই প্রমুখ ছিলেন নিউ স্কিম হাই মাদ্রাসা পাস।”১৮

 

মাওলানা আবু নাসের ওয়াহেদ প্রবর্তিত নিউ স্কিম মাদ্রাসা চালুর পেছনে একটা গুপ্ত কিন্তু বিরাট উদ্দেশ্য ছিল। নিউ স্কিম মঞ্জুরীর পর তৎকালীন ভারতীয় বৃটিশ সরকার যে বিবৃতি দেন তন্মধ্যে উল্লেখ ছিল: “একদিক হ‌ইতে একথা বলা যাইতে পারে যে, এই স্কীম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ছাত্র তৈরির পক্ষে বিশেষ সহায়ক হ‌ইবে।” নিউ স্কিমের পেছনে এই ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তৈরির পক্ষে বিশেষ সহায়ক’ হবার যে জব্বর উদ্দেশ্য ছিল তা যথেষ্ট সফল হয়েছিল।

সাক্ষ্য হিসেবে গবেষক ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-মাসুমের উদ্ধৃতি গ্রহণ করা যায়: “আলোচ্য সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মুসলিম ছাত্রদের উল্লেখয়োগ্য অংশ ছিল নিউ স্কিম মাদ্রাসা থেকে আগত যারা ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যাচর্চার পাশাপাশি খেলাধূলা, রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছিল। দ্রষ্টব্য, Report of the Moslem Education Advisory Committee, 1934, pp. 25-27।”

 

জাতীয় অধ্যাপক জ্ঞানতাপস আব্দুর রাজ্জাক স্যার‌ও এ সম্পর্কে বলেছেন: “তখন মুসলিম প্রধানদের মধ্যে কিছু লোক বললেন: মুসলিমস উইল নট এ্যক্সেপ্ট ইংলিশ এডুকেশন আনলেস এ টিঞ্জ অব রিলিজিয়াস ইনস্ট্রাকশন ওয়াজ দেয়ার। এজন্য এ্যরাবিক, পারসিয়ান শুড বি গিভেন এ মোর ইমপোরট্যান্ট প্লেস। এই ধারণা নিয়েই নিউ স্কিম দাঁড় করানো হয়েছিল: নাইদার মাদ্রাসা, নর—ইংলিশ হাই স্কুল। মুসলিম নেতাদের ইচ্ছা ছিল : এই নিউ স্কিম-এর কোপিং স্টোন হবে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ-এর ফ্যাকাল্টি। এখানে ইয়ং মেন উইল হ্যাভ বিন ট্রেইন্‌ড ইন এ্যরাবিক, পারসিয়ান, উর্দু, উইথ সাম রিলিজিয়াস ভিউ। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ইসলামিক স্টাডিজ-এ জয়েন করে উইল এ্যক্ট এজ লিডারস অব দি মুসলিমস। আবু নাসের ওয়াহেদ সাহেব তখন মাদ্রাসার (ঢাকা মাদ্রাসার) প্রিন্সিপাল। হি ওয়াজ দি প্রপোনেন্ট অব দিস আইডিয়া। অন্যান্য মুসলমান যারা ফেল্ট লাইক দ্যাট, অন্তত এরকম কোন আইডিয়া তাদের পক্ষ থেকে পাওয়া যায় না। আবু নাসের ওয়াহেদের নোট আছে: দ্যাট দিস ওয়াজ দি অরিজিনাল আইডিয়া বিহাইন্ড ঢাকা ইউনিভার্সিটি : এ্যাট লিস্ট ওয়ান অব দি আইডিয়াস। দেয়ারফোর ইসলামিক স্টাডিজ শুড বি সেন্টার পিস। বাই ইট ওয়াজ এ্যলাওড টু ডাই। আবু নাসের ওয়াহেদের পরে আর কেউ এটা নিয়ে খুব লড়াই করে নি।”১৯

 

এখানে রাজ্জাক স্যারের বয়ানে আবু নাসের ওয়াহেদের মূল অবদান স্পষ্টরূপে চিহ্নিত হয়। সেজন্যই আমরা দেখি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কমিটিতে মুসলিম শিক্ষাবিদ হিসেবে আবু নাসির ওয়াহিদের গুরুত্ববহ অন্তর্ভুক্তি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আর্থিক তহবিল গঠন করেন এবং বিশেষত মুশুরীখোলার তৎকালীন পীর সাহেব শাহ আহসান উল্লাহর কাছ থেকে তিন হাজার টাকা সংগ্রহ করে দেন।২০ কমিটির সদস্য হিসেবে তহবিল গঠন করার জন্য ন্যূনতম আদেশ না থাকা সত্ত্বেও ব্যাক্তিগত উদ্যোগ থেকে সে-সময়ে তহবিল গঠন করার মধ্য দিয়ে বাঙালি মুসলিম সমাজে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর দৃঢ়-আকাঙ্ক্ষা প্রতিভাত হয়।

 

আমরা বিশাল জমিজুড়ে ঐতিহাসিক ‘নিউ স্কিম মাদ্রাসা’ নিয়ে আলোচনা করলাম এজন্য যে, ‘এটাই তাঁর জীবনের জ্ঞান-সাধনা ও তাঁর চিন্তাকর্মের প্রধান কীর্তি।’২১ এখন আমরা আক্ষরিক অর্থে তাঁর জীবনীতে চলে যাচ্ছি।

 

মাওলানা আবু নাসের ওয়াহেদ ১৮৭২ সালে সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। সিলেট সরকারী হাইস্কুল থেকে এন্ট্রান্স এবং মুবাবিচাঁদ কলেজ থেকে ১৮৯২ সালে বিএ পাশ করেন। ১৮৯৭ সালে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আরবিতে অনার্সসহ এম.এ. ডিগ্রি অর্জন করেন— তাঁর পূর্বে কোনো বাঙালি মুসলমান আরবিতে অনার্স করেননি, তিনিই প্রথম। কর্মজীবন শুরু হয় ১৯০১ সালে: প্রথমে সিলেটের সরকারী স্কুলে শিক্ষকতা এবং পরবর্তীতে গৌহাটি কটন কলেজের আরবি ও ফার্সি বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯০৫ সালে ঢাকা মাদ্রাসার (বর্তমানে কবি নজরুল কলেজ) সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে তিনি সরকারিভাবে নিয়োজিত হন— ১৯২৭ সালে অবসর গ্রহণ পর্যন্ত উক্ত পদে বহাল তবিয়তে ছিলেন; মাঝখানে ১৯১৯ সালে উক্ত মাদ্রাসা নিউ স্কিম সিস্টেমের ভিত্তিতে ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজে রূপান্তরিত হলে তিনি সুপারিনটেনডেন্ট থেকে অধ্যক্ষের পদে উন্নীত হন। ১৯০৯ সালে ভারতীয় ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘শামসুল উলামা’ উপাধিতে সম্মানিত করা হয়। ১৯১৪-১৫ সালে পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালে তিনি ‘আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ’ বিভাগের পরিকল্পনা তৈরি করেন।

 

পূর্বেই বলা হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের জন্য তাঁর অবদান এবং ঢাবির প্রতি মুসলমান ছাত্রদের আকৃষ্ট করার জন্য তাঁর উদ্ভাবিত নিউ স্কিমের প্রয়োগ ঐতিহাসিকভাবে ফলপ্রসূ। সেই মোতাবেক, ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ‘আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ’ বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অর্থাৎ অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন—এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে জড়িত থাকা শিক্ষকমণ্ডলীর মধ্যে তিনি অন্যতম। সে-সময়ে ঢাবির একাডেমিক ও একজিকিউটিভ কাউন্সিলের‌ও সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তিনি। পাণ্ডিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে প্রভূত অবদানের জন্য তিনি ১৯২১ সালে ভারত সরকার কর্তৃক আই.ই.এস (ইন্ডিয়ান এডুকেশন সার্ভিস) ক্যাডারভুক্ত হন। তিনি কত সাল পর্যন্ত ঢাবির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যক্ষ ছিলেন তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। ১৯৩৪ সালে তিনি হজ পালন করেন, সেই সফরে মিশর আল-আযহারেও গিয়েছিলেন। চল্লিশের দশকে তিনি জড়িয়ে পড়েন রাজনীতিতে— ঠিক কোন্ দলের সাথে জড়িত ছিলেন তা উদ্ধার করা দুষ্কর হলেও এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, তিনি ১৯৩৭-৩৮ সালে আসামের প্রাদেশিক শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন ৯ মাস এবং তৎকালে আসামের বিধান সভার‌ও সদস্য ছিলেন। দেওয়ান নূরুল আনোয়ার বলেন: “তিনি প্যান ইসলামি চিন্তাধারা দ্বারা‌ও প্রভাবিত হ‌ইয়াছিলেন।”—এই প্রভাবেই সম্ভবত তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

 

তিনি কেবল মাদ্রাসা শিক্ষার নিউ স্কিম, ঢাবির ইসলামিক স্টাডিজের‌ই প্রাণপুরুষ ছিলেন না, সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাকে ১৯৩৫ সালে কামিল হাদিসে মঞ্জুরীদানের পেছনেও তাঁর একক প্রচেষ্টা ঐতিহাসিকভাবে সত্য। বলা যায়, একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে বাঙালি মুসলমানের শিক্ষা-সমস্যা দূরীকরণের জন্য‌ই তিনি সাধনা করে গিয়েছেন আমরণ।

 

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন সূফিধারার একনিষ্ঠ অনুসারী। তাঁর বাবা কাজী জাবিদ আলী একজন কবি ছিলেন; মওলানা কারামত আলী জৈনপুরীর খলিফা ছিলেন।

তিনি ছিলেন ঢাকার শাহ সাহেব লেনস্থ মশুরিখোলা দরবারের পীর সাহেব শাহ আহসান উল্লাহ রহ.-এর মুরীদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে তিনি স্ব-পীর সাহেবের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। পীরের প্রতি তাঁর আনুগত্য এবং অন্তরঙ্গতার নিদর্শন হিসেবে দেখা যায়, ইন্তেকালের পর তাঁকে সিলেটের নিজগ্রামে কবরস্থ না করে শাহ সাহেব বাড়ি তথা পীর সাহেবের পারিবারিক কবরস্থানেই কবরস্থ করা হয়।

এ থেকে তাঁর সূফিমানস অনুমান করা কঠিন নয়। তিনি ইন্তেকাল করেন ১৯৫৩ সালের ৩১ মে, যখন তাঁর বয়স ৮১।

 

প্রত্যক্ষদর্শী আবু যোহা নূর আহমদের বর্ণনায়: “লম্বা চাপ দাড়িতে মুখমণ্ডিত, স্বাস্থ্য সুন্দর, সাদা পায়জামা ও সাদা কোর্তা গায়ে, মাথায় জরিদার টুপি পরিহিত শামসুল উলামা ঢাকার সদরঘাটে প্রায়ই বৈকালিক ভ্রমণ করিতেন। ভ্রমণের পর নবাববাড়ীর মসজিদে গিয়া মাগরিবের নামাজ আদায় করিতেন। ইহার পর নবাববাড়ীর বন্ধুবান্ধবদের সহিত আলাপ আলোচনা করিয়া রাত্রে বাসায় ফিরিতেন।” (জালালাবাদের কথা : দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাংলা একাডেমী, ১৯৯৭, ৩৩৭ পৃষ্ঠা)

 

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: 

বাকারাতুল আদব, মিরকাতুল আদব, সালসিল কিরয়াত, নুখাবুল উলুম, মাদারিজুল কিরয়াত।

 

তাঁর ছাত্রদের মধ্যে প্রসিদ্ধগণ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর ডক্টর সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আব্দুল জব্বার খান, প্রাক্তন মন্ত্রী আজীজ‌উদ্দীন আহমদ, ডক্টর সিরাজুল হক, মাওলানা ফজলুল করিম এবং আবু জাফর শামসুদ্দীন প্রমুখ।

 

তাঁর অন্তরঙ্গ ব্যক্তিগণ: ন‌ওয়াব সলিমুল্লাহ, ন‌ওয়াব সৈয়দ শামসুল হুদা, ন‌ওয়াব সৈয়দ ন‌ওয়াব আলী চৌধুরী, একেএম ফজলুল হক প্রমুখ।

 

মাদ্রাসা শিক্ষায় নিউ স্কিম প্রবর্তনের মাধ্যমে বাঙালি মুসলমানের শিক্ষা-সংকট দূরীকরণ এবং ঢাবির প্রতি বাঙালি মুসলমানের আকৃষ্টতা সৃজনে আবু নাসের ওয়াহেদের অবদান চিরস্মরণীয়। একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে আমরণ যে মহৎ উদ্দেশ্যে তিনি নিরলস গতিতে কাজ করে গিয়েছেন তা বর্তমান সময়ের শিক্ষাবিদদেরকেও অনুপ্রেরণা যোগাবে, সন্দেহ নেই। বাঙলার শিক্ষাক্ষেত্রে একজন কীর্তিমান ব্যক্তিত্ব হিসেবে তাঁকে স্মরণ করা উচিত।

 

 

তথ্যসূত্র: 

১. ওহীদ গভর্নর ফুলারের সাথে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করে তাঁর পরিকল্পনার কথা শোনানোর পর ফুলার তাঁকে উৎসাহ দিয়ে বলেছিলেন, “Why don’t you set an example yourself and go abroad to get ideas about modernizing Madrasahs?” উদ্ধৃত: মুজতবা কথা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ : সৈয়দ মুর্তাজা আলী, ঢাকা, ১৯৭৬, ১৩৮ পৃষ্ঠা

২. ঐ ৬৭ পৃষ্ঠা. Report of the Madrasah Education Committee, 1941, p. 4.

৩.  ব্রিটিশ আমলে বাংলার মুসলিম শিক্ষা সমস্যা ও প্রসার : ড. মো. আব্দুল্লাহ আল-মাসুম, বাংলা একাডেমী, ২০০৮, ৪৪২ পৃষ্ঠা

  1. Report on Progress of Education in Eastern Bengal and Assam 1907-08 to 1971-7: Vol. I, Calcutta, 1913, p. 112 Calcutta University Commission, 1977-19, Vol. I, p. 170.
  2. Report of the Third Session of the Provincial Muhammadan Educational Conference. Held at Bogra on the 6th and 27th March, 1910. Calcutta, pp. 33-34.
  3. Ibid., pp. 34-35. Report on the Progress of Education in Eastern Bengal and Assam 1907-08 to 1917-12, Vol. 1. pp. 112, 117. Report of the Dacca University Committee, 1912. Calcutta, 1912, p. 97. Report of the Moslem Education Advisory Committee, 1934, p. 76. আবু নসর ওহীদের প্রস্তাবিত ১৮ বছরের শিক্ষা কোর্স সম্পর্কে আরও জানা যায়, ইব্রাহিমী, মুহম্মদ সিকন্দর আলী, বাংলাদেশে ইসলামী শিক্ষা : অতীত ও বর্তমান, ঢাকা, ১৯৯১, পৃ. ৫৭-62।
  4. Report of the Moslem Education Advisory Committee, 1934. p. 76. Report of the Madrasah Education Committee. 1941, p. 15.

৮. সৈয়দ মুর্তজা আলী, প্রাগুক্ত, ৬৮ পৃ.

৯. ড. মো. আব্দুল্লাহ আল-মাসুম, প্রাগুক্ত, ৪৪৬ পৃষ্ঠা

  1. Report of the Madrasah Education Committee, 1941, p. 16.
  2. Report on Public Instruction in Bengal, 1973-14, Calcutta, 1915, p. 18.

Report on Public Instruction in Bengal. 1914-15, Calcutta, 1916, p. 97.

১২. ড. মো. আব্দুল্লাহ আল-মাসুম, প্রাগুক্ত, ৪৫৪ পৃষ্ঠা

১৩. আলিয়া মাদ্রাসার ইতিহাস : আবদুস সাত্তার, মোস্তফা হারুন অনূদিত, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ২০০৪, ১৭৬ পৃষ্ঠা

১৪. বাংলার মুসলিম সমাজে আধুনিক শিক্ষার অগ্রগতি : মো. আব্দুল্লাহ আল-মাসুম, বাংলা একাডেমী, ২০০৭, ২১৫ পৃষ্ঠা

১৫. আলোচ্য সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মুসলিম ছাত্রদের উল্লেখয়োগ্য অংশ ছিল নিউ স্কিম মাদ্রাসা থেকে আগত যারা ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যাচর্চার পাশাপাশি খেলাধূলা, রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছিল। দ্রষ্টব্য, Report of the Moslem Education Advisory Committee, 1934, pp. 25-27.

১৬. Report on Public Instruction in Bengal, 1920-21, pp. 2, 28.

১৭. ড. মো. আব্দুল্লাহ আল-মাসুম, প্রাগুক্ত, ৪৯৪ পৃষ্ঠা

১৮. আত্মস্মৃতি অখণ্ড সংস্করণ : আবু জাফর শামসুদ্দীন, সাহিত্য প্রকাশ, ২০০৫, ৫৪ ও ৬৯ পৃষ্ঠা

১৯. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক-এর আলাপচারিতা : সরদার ফজলুল করিম, সাহিত্য প্রকাশ, ২০১৪, ৩৭ পৃষ্ঠা

২০. জালালাবাদের কথা : দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাংলা একাডেমী, ১৯৯৭, ৩৯৭ পৃষ্ঠা

২১. উনিশ শতকে বাঙালী মুসলমানের চিন্তা-চেতনার ধারা : ডক্টর ওয়াকিল আহমদ, প্রথম খণ্ড, সাহিত্য অকাদেমী নিউ দিল্লী, ১৯৮৩, ১২৯-৩০ পৃষ্ঠা

মতামত
লোডিং...