দোষটা তো তোমার না

 

বনিবনা নেই স্বামীর সাথে? অথবা স্বেচ্ছায়
অবৈধভাবে গেছ বিছানায়,
অতঃপর ব্রেকআপ?

ধর্ষন বলে দাও। মামলা ঠুকে দাও।
জানো, তোমার দেশে ধর্ষণের সংজ্ঞা কি?
সুযোগ আছে, কেন লাগাবে না কাজে?

অন্যায় হবে?
বলি, কে সে তোমার যে তোমার সাথে ত্যাড়ামো করে?
সেও তার শাস্তি পেল, আর তুমি সহমর্মিতা।
হাজার হলেও তুমি যে ধর্ষিতা।

 

আরে চিন্তা কিসের?
দোষটা তো তোমার না। বরং যারা এ সুযোগটা করে দিছে।

 

বিয়ের আগেই বেটার হাফ হয়ে লুতুপুতু করো?
সমাজ একটু ট্যারা চোখে দেখলেও আইন তোমাকে সাপোর্ট দিবে।

হাগ করো, কিস করো
রাস্তায়, পার্কে যেখানে মন চায়।

লোকে কটু কথা বলবে?
বলি-
বিকৃত, আনস্মার্ট, বেয়াদব লোকগুলোর কি খেয়ে দেয়ে কাজ নেই?
তোমাকে নিয়ে নাক গলায়।
হা করে কে কি করে জানোয়ারের মত গেলে
আর তোমাকে জ্ঞান দেয়।

তারা কে,
তোমার চলন বলন নিয়ে কথা বলার?
সিদ্ধান্ত শুধুই তোমার তুমি কি করবে, কি পড়বে।

 

তাতে হোক না কিছু শরমের কমতি।
কি আসে যায় তাতে?
জীবন তো এটাই।
এখন না তো আর কখন?

 

তাতে যাক না তোমার বাবা মার মাথা কাটা।
লজ্জায়, অভিমানে সমাজ থেকে একটু থাকুক না দূরে।
পাশের বাসার আন্টি আর পড়শিদের তো কোন কাজ নেই?
খালি লোকের দোষ খুঁজে বেড়ানো আর নিন্দে মন্দ।
নিজেরা তো কিছু করতে পারে না,
কারো ভাল দেখতেও পারে না।

 

তাতে হোক না কিছু নিষ্পাপ শিশুর ডাস্টবিনে অবস্থান।
হোক না এবরশন।
সমাজ বলে তো কিছু আছে।
মুখটিও তো দেখাতে হবে, সমাজমাঝে।

 

এরপরও যদি কভু দুর্ভাগ্যবশত অনুশোচনা হয়,
নিজেকে অপরাধী ভাবার কোন কারণ নেই।
নিজেকে নিষ্পাপ মনে করার যথেষ্ট সুযোগ আছে।

 

কারণ,
দোষটা তো তোমার না। বরং যারা এ সুযোগটা করে দিছে।

 

মতামত
লোডিং...