নক্ষত্রকণা

কবি মাত্রই স্মৃতি তৈরী করার কাজ করেন। শিল্পীর কাজই স্মৃতির ভাস্কর্য নির্মান। এই মৌলিক সত্য অনুধাবন করতে পারেন বলেই – শুনতে কিছুটা প্রাথমিক স্তরের প্রশ্ন মনে হলেও – কবিতা বা শিল্পকে টিকে থাকার তথা স্মৃতিতে একটা প্রশ্নের সামনে দাঁড়াতেই হয়। নতুন কবি আর পুরনো কবি যিনিই হোন না কেন, তার কবিতা কতদিন মানুষ পাঠ করবে, মনে রাখবে এমন ভাবনা, আশা ও আশংকা – সব কবির মনে না থাকলেও – উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কবিদের অনেকের মনেই বিরাজ করে। বাংলা কবিতায় গত চারটি দশকে অন্তত স্মৃতিতে ভিন্ন মাত্রার অথবা নতুন বা চমৎকার কিছু দিয়ে স্মৃতিতে থাকা যায় কিনা ইত্যাদি নানা গবেষণা হয়েছে নানা নামে। সকলেই নতুন কিছু আনবেন, অথবা পুরনোকে নতুন করে আনবেন কিনা, কেমন করে নতুন করে তুলবেন, কেমন করে মানুষের তথা পাঠকের মনে ঠাঁই পাবেন দশকের পর দশক বা শতাব্দী এমন চেষ্টা করে চলেছেন। সেসব চেষ্টার প্রতি প্রণতি জানাই। মনে রাখা ভাল মাঝে মাঝে চেষ্টা করার নামও কবিতা, সমালোচক একে নিরীক্ষা বললেও আমরা একে সাধনা বলি, কাজেই কবিতা বলি।

কবিতা কিভাবে স্মরণযোগ্য হয়ে ওঠে বা ভালো কবিতা হয়ে ওঠে তার নানা দিক বহু গুণীজন দেখিয়েছেন, বহু ভিন্ন মতও আছে এই কারু ঘিরে, এবং আরও বহু মত থাকা সম্ভব। এসব মেনে নিয়ে অল্প কিছু কথা বলার চেষ্টা করব। কবির প্রথম ও প্রধান কাজ কবিতার ভাষা তথা কবিতার জগতকে গড়ে তোলা – সেই জগতের যেমন বহির্জগত রয়েছে, তেমন অন্তর্জগতও রয়েছে। ভেতরের জগতকে বসতি দেয়ার ও স্থিত হতে দেবার জন্যই বাইরের জগতের দৃশ্যযোগ্য কাঠামো দাঁড়ায়। আবার ভেতরের শক্তিতেই সেই কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে – প্রাণ না থাকলে সুঠাম দেহ দাঁড়ায় কেমন করে? কাঠামোর সৌষ্ঠবই শিল্প নয়, খুঁত নিয়েও প্রাণের কারণে রনেসাঁ-র যুগের বহু শিল্প মাস্টারপিস হয়েছে, আর নিখুঁত হয়েও শিল্প হয়ে ওঠেনি অনেকের কাজই।

কবিতার জগতকে দৃশ্য ও স্পর্শগ্রাহ্য করে তোলার যাত্রা কবিতাকে বিবিধ পথে নেয়। এই যাত্রাগুলোতে কবিতা কোন কোন পথে হাঁটে তার ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। স্মৃতিতে গেঁথে থাকবার জন্য কবিতার মহাপরিসর যেমন গুরুত্বপুর্ণ তেমনি সেই মহাপরিসরকে ধারণ করার মত কাঠামোও তার থাকতে হয়। মহাকাব্য বলে ক্ল্যাসিকাল যেসব কাব্যের উদাহরণ আছে আমাদের চোখের সামনে তারা মহাপরিসর থাকবার বিষয়টি পরিষ্কার করে তুলে ধরে আমাদের সামনে। ইলিয়াদ, মহাভারত এমন সব মহাপরিসরের কাব্য। কিন্তু এদের লেখকগণের শিল্প কাঠামোও যুতসই ছিল – নাটকীয়তা, চরিত্র চিত্রণের পারদর্শিতা ইত্যাদি ছিল সেখানে। কেবল নীতিকথা আর দার্শনিকতাই শিল্প নয়, সেজন্য আলাদা সব জ্ঞানকাণ্ডই রয়েছে। তবে আমাদের অনুধাবনে কাঠামো বলতে যে কঠিন একরৈখিক গড়নের কথা মনে আসে আমার উদ্দিষ্ট তেমন কিছু নয়। বরং বলতে চাইছি বিষয়, কথা, সুর, ছবি ও অনুষঙ্গের মাঝে হাওয়া বয়ে যাবার মত সময়কে কতটা বয়ে যেতে দিচ্ছি — চিত্রটিকে বা কথাটিকে স্থিত হবার মত পরিসর তৈরী করছি কিনা, ইত্যাদি বিবেচনা। মানসে কিছু পরিসর তৈরি করার মাধ্যমেই স্মৃতি গড়ে ওঠে। সেই পরিসরে আসলে কবির তৈরী করা চিহ্নগুলো কোন ছবি, কথা অথবা অনুভব নিয়ে স্থায়ী হয় তা ভেবে দেখা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

মনে রাখা জরুরী, কবিতা কয়েক হাজার বছরের মানবিক সময় পেরিয়ে এসেছে এবং আমাদের হাতে বহু জাতির বহু উৎকৃষ্ট কাব্যের উদাহরণ বর্তমন। কাজেই কবিতার মানসে বদল যেমন জরুরী, এর প্রকাশের শিল্পেও সুচারুতা আসবে এমনই আশা করি। সেই ভাবনা পরিমন্ডলে দাঁড়িয়ে বলতে পারি কথা বলাই কবিতা নয়। কথা বলা একটি মঞ্চের শিল্প হতে পারে।

কবিতায় যদি কবির প্রাতিস্বিক প্রত্নমানস ধরা না পড়ে তবে চমক দেয়া কবিতা ক্ষণিকে যত আবেদন জোগাবে তা হারিয়ে যাবেও ততই দ্রুত। কবিতায় চমক দেয়া এবং আজকের অধিকাংশ লোক কী পড়তে আগ্রহী সেই বিবেচনা থেকে কবিতার বাইরের জগতকে নিয়েই যদিও সকলে মাতামাতি করে, তথাপি ভেতরের জগতই মৌল। সেদিকে চোখ পড়ে না বলেই হুট করে কিছু কবি ও তাদের পাঠক আসেন, পলকেই তারা হারিয়েও যান। ভেতরের জগতে কিছু থাকলে চমক দেয়ার পরও কবিতা হারাবে না, কিন্তু ভেতর ফাঁপা হলে বহু চমক, বহু বিষয়, সাম্প্রতিকতার চাপ, বুদ্ধিবৃত্তিক দেনা শোধ, ধর্মীয় শব্দ ও “অনুষঙ্গের” দ্বারা দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা ইত্যাদিতে কবিতা ভেঙে পড়বে।

যেমন দেখতে পাই ভেঙে পড়ছে অনেকেরই কবিতা – নীরবে ভাংছে বলে লোকে ভাবছে এটা হয়ত রক মিউজিকের মত একটা ডিস্টর্টিভ আর্ট হচ্ছে। কিন্তু এটা যে ক্ষয় (ডিজেনারেশান) তা ধরতে পারছে না কেউই। একটা কথা ভুলে যেন না যাই, মিছরির দানা আর কাচের টুকরো কিন্তু এক নয়। একটিকে আপনি খাবেন আর মিষ্টতা পাবেন, অন্যটি আপনার জিভ-গলা-পাকস্থলী জখম করে এগুবে।

আমাদের অগ্রজদের কবিতায় কী কী ঘটে গেছে সেসব নিয়ে বিস্তর বলা হয়েছে এরই মধ্যে। তারা যতখানি এগিয়েছেন আমাদের কাজ হবে তার চেয়ে কিছু বেশীদূর এগুনো, অথবা ভিন্ন কোনদিকে এগুনো। দেখে নিতে চাই আমাদের সময়ে কী ঘটছে। আমাদের সমসাময়িক কবিবন্ধুগণ নানা প্রবণতা ও প্রকাশ নিয়ে হাজির হয়েছেন – তার একটি হল চিত্রপ্রধান কবিতা। আমাদের সময়ের কবিতায় চিত্রের একটি বিশেষ ক্রিয়াশীল চরিত্রও রয়েছে। আমাদের  চিত্ররূপময় কবিতার যেসব ধারা নতুন করে তৈরী করতে চাইছেন এই সময়ের কবিরা তার মাঝে একটি ধারা দেখেছি কবিতার দেহে অজস্র চিত্রকে প্রবাহিত করে দিতে চাইছে। আমার চোখে এই প্রবণতার যে চরিত্রটি ধরা পড়েছে তা হল চিত্রকে তারা প্রবাহিত করে অভিমুখহীনতায় বিলীন করে দিচ্ছেন তারা। ঘটনা হচ্ছে, অজস্র ছবি প্রবাহিত করে দিলে স্মৃতিতে সেসব গাঁথার  অবকাশ পায় না, তার বদলে স্মৃতি থেকে এরা ঝরে যায়, অর্থাৎ এদের এভাবে ঝরিয়ে ফেলে দেয়াই হয় আসলে। আমরা লক্ষ্য করতে পারি আমাদের সময়ে চলচ্চিত্র যেমন করে দৃশ্য নিয়ে নিজের সংকট থেকে বের করে আনতে কী করেছে। ভাবতে হবে যে, ছবিটি স্থায়ী হলেই কেবল স্মৃতিতে গাঁথে, একটি স্মরণযোগ্য কবিতা জন্ম নেবারও সম্ভাবনা তৈরী হয়। পরিমিতিবোধ এক্ষেত্রে একটি চাবি বটে। মনে রাখতে বলি, ছবিটি তার নিজের আবহ ও পরিসর দাবী করে, এবং ছবিটিকে ও তার পরিসরকে, অথবা যেকোন একটিকে, অন্তত, হতে হবে বাঙময়। আরেকটি দিকে খেয়াল রাখবেন, ছবিরও কিন্তু সুর আছে। গভীরতর দিকটি হল, ছবিটির কিছু সময় প্রয়োজন তার সুরকে বয়ে যেতে দিতে। ছবি-সুর-পরিসরের তেমন অন্তর্বয়িত কবিতাই স্মৃতিতে নিজেকে বসিয়ে নেয়।

আমাদের কবিতার একটি বড় সংকট হল আমরা কবিতাকে বরাবর কবিতার বাইরের কোন কিছুর প্রতিনিধি করে তুলতে চেয়েছি। অন্য কিছুর ওপর ভর করে কবিতাকে এগিয়ে নিতে চেয়েছি আমরা অনেকেই। আবার যখন সেই চাপ থেকে মুক্তি চেয়েছি তখন ভর করেছি ছন্দের বাহনে। আমরা বরাবর ভুলে গিয়েছি যে কবিতা, অন্য শিল্প মাধ্যমের মতোই, এমন কিছু বাস্তবকে ধরতে চায় যা সাদা চোখে ধরা পড়ে না। সংগীতের উচ্চাংগের সাথে, চিত্রকলার শীর্ষের সাথে কবিতার মিল রয়েছে। কবিতা বিমূর্ততাকে ধরতে চায়। কবি প্রাত্যহিক, ব্যবহারিক, লঘু যাই হয়ে উঠতে চান না কেন, বিমূর্ততা অমূর্ত হয়ে ওঠাকে তার ধরতে শিখতে হয়। তাকে বিমূর্ত কবিতা লিখতে হবে এমন নয়, তাকে এবস্ট্রাকশান এর প্রক্রিয়াকে বুঝতে হবে। এটি একটি সক্রিয়তা যা তার অন্তর্মানসে ঘটবে। আমাদের কবিতায় এবং সঙ্গীতে এই যাত্রার বহু স্বাক্ষর রয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরেও রয়েছে এর প্রমাণ। আলবের্তো জাকোমিত্তি বা কামরুল হাসান বিমূর্ত শিল্প গড়েননি কিন্তু শিল্পের  এবস্ট্রাকশানকে ধরতে জানতেন। সেখান থেকে শিল্পকে চরিত্র দিতে জানতেন। জয়নুলের রেখা কথা বলে দেখেই আপনি তার মুখহীন সাঁওতালদের ছবিকে ভুলতে পারেন না। তাদের সামুহিকতার চরিত্রকে আপনি মন থেকে মুছতে পারেন না।

সঙ্গীতের কথা বলি এবার – সুরের কথা বলি। সুরের নানা সূক্ষ্ণ কাজ তার উচ্চাবচতায় কবিতাকে হৃদয়গ্রাহী করে তোলে। এটা বলা আমার উদ্যেশ্য নয় কবিতাকে সুরেলা বা তান প্রধান হতে হবে, বরং আমি বলতে চাইছি সেসব কবিতাই স্মরণীয় হয় যারা হয় সাংগীতিক। সঙ্গীত তো বহু মাত্রাকে ধারণ করে, কাজেই সুরের খেলাকে সঙ্গীতের বড় পটে মেলে দিয়ে ছবি আঁকার ফল বেশ যাদুকরী হয়। সুরের ওঠানামার কথা বলতেই হবে। সুরে বৈচিত্র্য থাকে বলেই সুর আমরা মনে রাখি। বৈচিত্র্য আমাদের স্মৃতিতে নানা খাঁজ কেটে গেঁথে যায়। মনে পড়তে পারে নাট্যিক সংগঠনের কথা – উন্মোচন, পটপরিবর্তন, ক্লাইম্যাক্স, দেইনুমাং বা আবেগের মুক্তি বা আবেগকে স্তিমিত হতে দেয়া। বাঁক নেয়ার খেলা যদি না থাকে তবে সুর পড়ে যেতে বাধ্য। প্রচুর ছবি যদি ফ্ল্যাট সুরের মতো বয়ে যায়, তবে তা মনে রাখাও দুঃসাধ্য। কবিতাকে নাটকেরই মতো কিছু পর্যায়ের ভেতর দিয়ে আনা একটি সহজ চেষ্টা হতে পারে। অনুভূতিকে গড়ে তুলতে তাকে কিছু দৈর্ঘ্যের ও পরিসরের ভেতর দিয়ে আনার কাজটি কবিতাকে ফলিয়ে তুলতে পারে। অনুভুতি এভাবে গড়ে ওঠে, স্মৃতিও।

সুরের বাহন হতে হবে একটি স্বরকে। স্বর মানে গলা নয়, কণ্ঠ নয়। স্বর অস্তিত্বের গ্রাহ্যরূপ। স্বর প্রক্ষেপিত জীবনের নাম। স্বর কবিরই নাম। স্বরে খসখসে বা মোলায়েম টেক্সচার চরিত্রের স্মারক। আমাদের সময়ে কবিদের মাঝে অন্যতম আলোচ্য বিষয় কবিতার ভাষা – বস্তুত ভাষাই কবিতা, কেননা ভাষাই জগত ও মানস।

আপনি ভাষাকে গড়ছেন না, আসলে আপনার জগতকে গড়ছেন, কিংবা জগতকে গড়ছেন না আসলে ভাষাকেই গড়ে তুলছেন। ভাষায় প্রকাশ ও অপ্রকাশের কিংবা আলোআঁধারির জগতও আছে। কথাটাকে এভাবে বলা যায়- ভাষা প্রকাশ করে আবার গোপনও করে।

সঙ্গীতে যেমন সব সুর বাইরের দিকেই বাড়ে বা এগোয় তা নয়, কিছু তো অন্তরীনও (ইন্টার্নালাইজ) করা হয় – নতুবা কথাহীনতার জগতকে বোঝা যায় না। বাস্তব, তথা কবি তার আত্মায় যে বাস্তবকে যাপন করেন, তার ধরণই নির্ধারন করে কেমন হবে তার ভাষা। কেউ নীরবতাকে কবিতায় অভিব্যক্তি দেয়ার উদ্দেশ্যেই সামনে আনেন, কেউ আবার নীরবতায় মন্থন করে গাছের ছায়ার পাশে রেখে তার একেকটি অলিন্দকে এঁকে দেন নীরবতায়।

ভাষা অনুভুতি গড়ে তোলে, অভিজ্ঞতা তৈরী করে, কেননা কবির স্বতন্ত্র জগত নিজেকে উপস্থাপন করে কবিতাতে, কেননা কবি তার ভাষাই লেখেন কবিতায়। বিভিন্ন বাস্তবের বিভিন্ন রূপ নিয়ে কাজ করার বেলায় কবি নিজের ব্যক্তিত্বের সাথে যে বোঝাপড়া তৈরী করেন তার রূপ দেখা যায় কবিতায় – কবিতায় গাঁথা মোজাইকের মত চিত্রসুরের বা অদ্ভুতের, এবং গহীনকে ধরে থাকা তার আত্মার অতলতা আমাদের দাঁড়া করায় নতুনতর অভিজ্ঞতায়, সেই পরিসরে দাঁড়া করে নতুন রূপের মুখোমুখি, ঘটায় রূপান্তর, দেয় নতুন জন্মও। মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে সিকদার আমিনুল হকের মত কিছু শিল্পীর কথা।

কবিতায় পরিশীলিত মানস বা আত্মার প্রকাশ ঘটে বিভিন্নভাবে। এখানেই তফাৎ ঘটে যায় বড় ও ঊন কবির মাঝে — দুজনে একই ধারার বাস্তব নিয়ে লিখলেও ফারাকটা কোনভাবেই এড়ান যায় না। উদাহরণ দেয়া যায় মৃদুল দাশগুপ্তের সঙ্গে তারই মত কাছাকাছি ধারার বাস্তব নিয়ে কাজ করা অন্যদের মাঝে যে পার্থক্য ঘটে গেছে তা নিয়ে। মৃদুল দাশগুপ্তের কবিতায় প্রতিনিয়ত দেখা আপাতদৃশ্য বাস্তবের পাশে ভেসে থাকা গহীন বাস্তবের খেলা অনন্য সুর তৈরী করে— এসব কেবল পরিশীলিত মানসের ও ভাষার ফল। সুতার মত একটি সুর জড়িয়ে থাকে পরতে পরতে।

এবং কিছু হঠাৎ আলোর ঝলকানি কবিতাকে আকর মূল্য দেয়। এই সময়ের কবিরা তেমন উদাহরণের সামনে পড়েছেন বলেই বিশ্বাস করি। একেকটি ঝলকই হয়ে ওঠে একেকটি কবিতা- পরিমিতিবোধের কথা ফিরে এল কি? হঠাৎ আলোর ঝলকানির আরেক মূল্য তার ফাইন্যালিটিতে, এর নাম কি প্রস্তাব করতে পারি চূড়ামন্যতা? স্বতস্ফুর্ততার মত এসব প্রকাশ প্রায়ই এমন বাস্তবকে ধরে রাখে যা কবির গহীন আত্মার দীর্ঘ ধ্যানের ও পরিশীলনের থেকে জন্ম নেয়া নক্ষত্রকণা। বাংলা কবিতায় এমন আপাত-স্বতঃস্ফুর্ত ও গভীর মুক্তি তার বহুতলস্পর্শীতা নিয়ে যুগে যুগে জেগেছে।

মতামত
লোডিং...