জীবন

শুভ্রা চক্রবর্তী

অতীতের স্মৃতিকে বাক্সবন্দি অতীতে পুরে বর্তমানের ভেলায় বহুদূর ভাসিয়ে দিয়ে চোখে মুখে হাসির রেখা ফুটিয়ে জয়ের হাসি হাসতে পারলে ভাববেন, ওই বাক্সবন্দি অতীতের নাম- ‘অভিজ্ঞতা’।

ঘরছাড়া পথিকের মতো পথে নেমে হেঁটে আসা পথের দিকে একরাশ দুঃখ নিয়ে তাকিয়ে ফের ফিরতে চাওয়ার নাম- ‘মায়া’।

ঘরের পাশে লাগানো চারা গাছটিতে রোজ বিকেলে নিয়ম করে পানি দেবার ফলস্বরূপ একসময় সে ফুলে-ফলে পরিপূর্ণ হয়ে আপনাকে তৃপ্ত করে, এর নাম- ‘দায়বদ্ধতা’।

একটা মানুষ যেখানে বাঁচে-বাড়ে, যেখানটায় তার আহ্লাদ-আক্ষেপ, যেখানটায় সে ঠোঁটচাপা কান্নায় নিজেকে ভাসিয়ে আবার বুকভরা হাসিতে মেতে ওঠে- ওটার নাম ‘সম্পর্ক’।

আপনার মন খারাপের সবকটা দিনে ঐ যে আকাশটা মেঘলা হবে না জেনেও তার দিকে নিষ্পাপ ভঙ্গিতে তাকিয়ে আপনার নিঃস্বার্থ নিগুঢ় অনুভূতিগুলো যখন নীরবেই প্রকাশ করেন- তার নাম ‘ভালোবাসা’

আজকে বাঁচবেন কিনা সেটা অনিশ্চিত জেনেও কাল কী করবেন সেটা প্ল্যান করে রাখার নামই- ‘বিশ্বাস’।

হাজারো বেরোতে চাওয়া কথারা যখন অব্যক্তই থেকে যায়, তখন তার নাম- ‘দীর্ঘশ্বাস’।

প্রকৃতির নিষ্ঠুরতা, চারপাশের মানুষগুলোর কটূ কথা যখন আপনাকে সুদীর্ঘ এক বিষাদ সাগরে ভাসিয়ে দেয়, তখন যে বিষয়টিকে আঁকড়ে ধরে স্রোতের বিপরীতে আপনি একাই লড়াই করে যান, তার নাম- ‘স্বপ্ন’

‘স্বনির্ভরতা’ গড়ে তোলার গল্পটা একটা ‘অভিজ্ঞতা’। ‘মায়া’ কষ্ট নামক ‘দীর্ঘশ্বাস’ এসব ‘সম্পর্কের’ এক একটা অংশ। এই সম্পর্কের মাঝে যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তা হলো ‘বিশ্বাস’। আর বিশ্বাস আসে ‘ভালোবাসা’ থেকে। আবার যে বিষয়টিকে মানুষ সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে, তা হলো-স্বপ্ন।

অতঃপর, এই স্বনির্ভরতা, অভিজ্ঞতা, মায়া, দায়বদ্ধতা, সম্পর্ক, ভালোবাসা, দীর্ঘশ্বাস, বিশ্বাস এবং স্বপ্নের সম্মিলিত রূপকে আমরা বলি ‘জীবন’।

মতামত
লোডিং...