পথশিশু

আশরাফ সাব্বির

মুরাদপুর মোড়ে জ্যামে আটকে আছি। সিএনজির অবিরাম ঘড় ঘড় শব্দে মাথা ধরে গেছে। আমি আবার বেশি শব্দ সইতে পারি না। মিটারের দিকে তাকিয়ে দেখি ৫৬ টাকা উঠে গেছে! সেন্ট্রাল রোড থেকে এইটুকু আসতেই এত টাকা উঠলো কীভাবে? মিটারে নিশ্চয়ই ঝামেলা আছে। তাইতো ভাবি, মিটারে যেতে বললাম আর এত সহজেই কেন রাজি হয়ে গেল সিএনজিওয়ালা!  ব্যাটাকে কিছু একটা বলতে নিচ্ছি এমন সময় ছোট্ট একটি ছেলে এগিয়ে আসলো গাড়ির দিকে। উদোম গা, ময়লা ছেঁড়া প্যান্টটাতে ধুলোর এমন মোটা আস্তরণ পড়েছে যে আসল রংটাই চাপা পড়ে গেছে। ছেলেটা সিএনজির গ্রিলের ফাঁক দিয়ে আংগুল ঢুকিয়ে দু’হাতে আঁকড়ে ধরে বললো, “স্যার কয়ডা ট্যাহা দিবেন? ভাত খামু…”

 

ছেলেটার কথায় অস্বাভাবিক নির্লিপ্ততা। চোখের মণিটা তার ধকধক করছে। যেন সেখানে আগুন জ্বলছে! ক্ষুধার আগুন! পকেটে হাত দিলাম। একরাশ আশা নিয়ে হাড্ডিসার ছেলেটা মলিন মুখে আমার দিকে চেয়ে আছে। মানিব্যাগটা বের করে আনবো এমন সময় ট্রাফিক-নিয়ন্ত্রক মহোদয়ের তীব্র হুইসেল। সাথে সাথে হুড়মুড়িয়ে সব গাড়ি দিল ছুট। গাড়ির সাথে সাথে ছেলেটাও দৌঁড়াচ্ছে। অনাহারে, দূর্বল শরীর নিয়ে এত জোরে তাকে দৌঁড়াতে দেখে ভারী অবাক হলাম! ছেলেটা এক হাতে এখনো গ্রিলটা আঁকড়ে ধরে আছে। যেভাবে গাছ শেকড় দিয়ে মাটিকে আঁকড়ে ধরে রাখে। পরক্ষণেই যান্ত্রিক গতিশক্তির কাছে হার মানে সে। ছেড়ে দেয় গ্রিলটা।

 

সকাল থেকে মনটা এমনিতেই খারাপ ছিল, এই ঘটনার পর আরো খারাপ হয়ে গেল। চারটে ভাতের জন্যে এই বেচারাকে না জানি কত সংগ্রাম করতে হবে! সিএনজিওয়ালার উপর ভীষণ মেজাজ খারাপ হচ্ছে। আরে ব্যাটা, সিএনজিটা একটু সাইড করলে কী এমন হতো?

– ঐ মিয়া! তখন সিএনজিটা সাইড করলে না ক্যানো? দেখলে না ছেলেটা ভিক্ষা চাইতে এলো?

– স্যার, তহন য্যামনে হুড়মুড়াইয়া গাড়িগুলান টান দিসে না! সাইড করতাম ক্যামনে আপনেই কন!

 

তার কথায় যুক্তি আছে। ওপেন বড় সিগনালগুলোতে গাড়ির এত লোড থাকে যে ঐসময় কোন গাড়িরই থামার কিংবা সাইড করতে পারার কথা না।

 

– কিন্তু তোমার মিটারে টাকা এত বেশি উঠে ক্যানো? মিটার বাড়িয়ে রেখেছো নাকি?

– জ্বে না স্যার…অহনকা মিটারের দাম বাইড়া গেছেগা অনেক!

 

সিএনজিওয়ালার সোজাসাপটা জবাব। মোটেও তর্ক করতে ইচ্ছে করছে না। এরা বহুত চাপাবাজি করতে জানে। তাছাড়া চলন্ত অবস্থায় চালকের সাথে কথা বলা ঠিক না। আর এরা তো গরিব, দুটো পয়সা বেশি খাক না হয়! “জলদি চালাও” এই একটা কথা বলেই আমি চুপ হয়ে গেলাম। এখন আছি জিইসি, লক্ষ্য নিউ মার্কেট! নিউমার্কেট যখন প্রথম এসেছিলাম তখন রিমি ছিল আমার সাথে। দিনটা ছিল ১৪ ফেব্রুয়ারী, ভালবাসা দিবস! জীবনে প্রথমবারের মত প্রেমিকার হাত ধরে ভালবাসা দিবস পালন! ভেতরে ভেতরে উত্তাপটা ভালই টের পাচ্ছিলাম। দিনটা বেশ রোমাঞ্চকর ছিল আমাদের দুজনের জন্য। দিনময় রিক্সায় ঘুরে বেড়িয়েছিলাম। নিউমার্কেট পৌঁছে রিমির পছন্দ মোতাবেক একটা দোকানে খেতে ঢুকলাম। বের হয়ে রিমি একটা কাণ্ড করে বসলো। আমি রিক্সা ঠিক করছিলাম। এমন সময় কোত্থেকে একটা বাচ্চা মেয়ে দৌঁড়ে আসলো। এসেই সোজা রিমির কাছে হাত পেতে বসলো। মুখে তাচ্ছিল্যবোধক কিছু শব্দ করে মেয়েটাকে ভাগানোর চেষ্টা করলো রিমি। কিন্তু মেয়েটা নাছোড়বান্দী, যাবেই না। যেন রিমির কাছ থেকে ভিক্ষে আদায় করেই ছাড়বে। সে মুখে কিছু বলছিল না তবে তার চোখের ভাষাই তার ক্ষুধানলের কথা জানান দিচ্ছিল। রিমি সে ভাষাটা পড়তে না পারলেও আমি ঠিকই পড়তে পেরেছিলাম। মেয়েটা রিমির পিছু ছাড়ছেই না! একপর্যায়ে সে রিমির শাড়ির আঁচলের কোণা টেনে ধরে মিনতি করতে লাগলো। হঠাৎ, ঠা স স স স..! একটা শব্দ হল।  ফিরে দেখে বুঝলাম রিমির প্রকান্ড এক চড় নেমে এসেছে এই কোমল পবিত্র গালে। কাঁদতে কাঁদতে দৌঁড়ে চলে গেল মেয়েটা।

 

– ধুরো! তুমি কি করলে এটা! ভিক্ষে দেবেনা ভাল কথা, তাই বলে মারলে কেন?

– বেশ করেছি, আমার শাড়িটাই নোংরা করে দিলো বজ্জাত ফকিন্নীটা!

– এক কোণায় একটুখানি ধরেছে কি ধরেনি, তাতেই নোংরা হয়ে যাবে নাকি!

– তা নয় তো কি! এখন তাড়াতাড়ি রিক্সা ঠিক করো, ভাল্লাগছে না!

 

চোখেমুখে ভীষণ বিরক্তি। রিমির সেদিনের এই আচরণটা আমার একদমই ভালো লাগেনি। সেদিনের পর থেকেই দিনকে দিন তার বিভিন্ন আচরণ আমার বিবেকের সামনে প্রশ্নবোধক এবং বিস্ময়বোধক চিহ্ন হয়ে দাঁড়াতে লাগলো। তাকে বিভিন্ন বিষয়ে মানা করলে কথা শুনতে চাইতো না। রিমি প্রকাণ্ড বড়লোক ব্যবসায়ী বাবার একমাত্র মেয়ে ছিল। সব ব্যাপারেই সে ছিল মাত্রাতিরিক্ত আহ্লাদী। সে সবার সাথে খুব বেশি দাম্ভিকতা দেখাতো, কখনো কখনো এমনকি আমার সাথেও! যত সময় যাচ্ছে বুঝতে পারলাম, ধীরে ধীড়ে রিমি আমার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

 

অবশেষে এইতো ক’দিন আগে হঠাৎ ফোন করে বললো, “রিলেশনটা আমার পক্ষে আর রাখা সম্ভব না…।” তারপর নানা অজুহাত দেখাতে শুরু করেছিল। সেগুলো অবশ্য আমাকে শুনতে হয়নি, তার আগেই আমার কাঁপা কাঁপা হাত থেকে মোবাইলটা নিচে পড়ে ভেঙে গেল…।

 

“এই তো স্যার, মার্কেট তো আইসা পড়লাম”, ড্রাইভারের কথায় হুঁশ ফিরে আসলো। ভাবতে ভাবতে কখন যে সিএনজিটা মার্কেটের সামনে এসে থেমেছে টেরই পেলাম না। ভাড়া মিটিয়ে নেমে পড়লাম যান্ত্রিক খাঁচা থেকে। ক্ষুদা লেগে প্রচণ্ড। কিছু খাওয়া উচিত মনে করে অভ্যাস মোতাবেক ঢুকে পড়লাম রিমির পছন্দের দোকানটাতে। ভেতরে প্রবেশ করতেই প্রথমে চোখ পড়লো সেই কোণার টেবিলে, আমরা সবসময় যেখানটায় বসতাম।

 

যাক, খালিই পড়ে আছে ওটা । বেশ গমগমে একটা পরিবেশ। অধিকাংশ টেবিলই যুগলদের দখলদারী। কেউ হাতে হাত রেখে চুপচাপ বসে আছে। এমন ভান করছে যেন কেউ দেখছেইনা।  কেউ বা হাসতে হাসতে একে অপরের গায়ে গড়িয়ে পড়ছে। আমি ধীর পায়ে কোণার টেবিলটায় এসে বসেছি। কিছুই পাল্টায়নি। কী বা পাল্টাবে? ক’দিনে বুঝি কিছু পালটায়? মানুষ অবশ্য পাল্টায়। এখানে এতবার এসেছি যে, ওয়েটাররা আমাকে চেনে আমিও তাদের নামসহ চিনি। একটা অন্যদিনের মত যথারীতি হাসিমুখে এগিয়ে এলো মেন্যুকার্ড হাতে। আমি আনমনে বেশ কয়েকটা মেন্যু অর্ডার দিয়ে ফেললাম। মুখোমুখি রিমির চেয়ারটা ফাঁকা। সেখানে জোর করে ওর একটা কাল্পনিক মূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করছি, কিন্তু পারছি না। কল্পনাগুলোও কেমন যেন মিইয়ে যাচ্ছে দিনদিন। খাবারের সুঘ্রাণে সম্বিত ফিরে পেলাম। বেশ গরম খাবার। ধোঁয়া উঠছে। মুখে দিলেই জিভ পুড়ে যাবে। এত আইটেম দেখে আমার মনে পড়লো মানুষ তো মাত্র একজন, আমি একা, তার ওপর ওয়েটার ডবল খাবার দিয়েছে!

– সে কি! ডবল খাবার দিয়েছো কেনো?

– স্যার, আপনি তো সবসময়ই ডবল অর্ডার করতেন!

রাগ যেন এসেও আসলো না। রাগ হয়েও বা কী করবো, কপালে তো লেখা নেই যে, এই ছেলের ব্রেকআপ হয়েছে। তাই বড় নিশ্বাস ফেলেই বললাম, “আচ্ছা যাও!”

 

অনেক সময় প্রচণ্ড ক্ষুধা পেলেও এক গ্লাস পানিতে তা উধাও হয়ে যায়। আজও ঠিক তাই হল। পানির বোতল খুলে পানি পান করতেই ক্ষুধা গায়েব। ক্ষুধাটাও রিমির মত। রিমিকে যেমন কখনো বুঝতে পারতাম না, এই ক্ষুধাকেও বুঝতে পারিনা। ২০ টাকার বোতলের একটু পানি পেট ভরে গেল নাকি খাবারেও রিমির চেহারা ভেসে উঠছে বলে খেতে মন চাইছে বুঝলাম না। ধুর খাবই না শালার! এখানেও সেই সুন্দর চেহারার ডাইনির ছবি ভাসছে। বিরাট অংকের বিল মিটিয়ে চেয়ারটা ঠেলে উঠে দাঁড়ি পড়লাম। হাঁটা শুরু করবো ঠিক এমন সময় মনে পড়লো টেবিল থেকে মোবাইলটাতো নিলাম না। মোবাইল নিতে টেবিলের দিকে তাকাতেই চোখে পড়লো টেবিলভর্তি খাবার। চোখটা হঠাৎ থমকে গেল। এতগুলো খাবার ফেলে যাবো? ধুর গেলাম না হয়! আমার আবার খাবার প্যাক করে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা বিরক্তিকর লাগে। আচ্ছা ওরা কি করবে এই খাবার দিয়ে? আমি একটা আইটেমও স্পর্শ করিনি। আমি যাওয়ার পর এগুলো নিশ্চিত ভেতরে নিয়ে যাওয়া হবে। এরপর খাবারটা প্রসেস করে অন্য কাউকে সার্ভ করা হবে। বাটপার যত্তসব। সংশয়ে পড়ে গেলাম। বুঝতে পারছি না খাবার প্যাক করে নিয়ে যাবো কিনা! হঠাৎ লক্ষ্য করলাম আমার পায়ের কাছে একটা মূর্তি ভেসে উঠছে। ছোট্ট একটা ছেলে, উদোম গা, ধূলাস্তীর্ণ প্যান্ট। আকুল চোখে চেয়ে রয়েছে টেবিলভর্তি খাবারের দিকে। চিনতে একটুও কষ্ট হয় না। আরে! এ তো সেই ছেলেটা! যে ট্রাফিক সিগনালে আমার সিএনজির পাশাপাশি ছুট দিয়েছিলো! ছেলেটার ঠিক পাশেই আরেকটা মূর্তি ভেসে উঠেছে। একটা জীর্ণশীর্ণ মেয়ে। নোংরা কাপড় পরা। মুখটা ভারী অস্পষ্ট দেখাচ্ছে। যেন বহু দিনের ব্যবধানে অযত্নে রাখা দারুণ কোন তেলরঙ ঘোলাটে হয়ে গেছে। এই মূর্তিটাকে চিনতে না পারলেও আমি ধরেই নিয়েছি, এটা এক বছর আগে রিমির কাছে চড় খাওয়া সেই মেয়েটারই মূর্তি! বিমূর্ত মূর্তি দুটো আমার সামনে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে। দু’জোড়া ধকধক করে জ্বলতে থাকা চোখের মণিতে ক্ষুধার আগুন। চোখের এই প্রতীকী ভাষাটা যেন হাজার শব্দ হয়ে তাদের তীব্র নিরবতার সাফাই গাইছিল।

“ওয়েটার!”, বেশ জোরে হাঁক দিলাম । আশেপাশের সবাই চমকে আমার দিকে ফিরে তাকাল। কিন্তু আমার যেন ফিরে তাকানোরও ইচ্ছে নেই। ওয়েটার হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এসে বলল,

– জ্বী স্যার, বলুন।

– খাবারগুলো প্যাক করে দাও।

– ওকে স্যার।

এক্সিট দিয়ে বের হওয়ামাত্রই দেখি গুটি কয়েক পথশিশু বাইরে ঘুরঘুর করছে। অদূরে রাস্তার ওপারে জটলার মত কয়েকজন বসে রয়েছে। আমাকে বেরুতে দেখেই দুটো ছেলে কাছে এগিয়ে এসেছে। ওদের চেহারায় অনেক মিল। ভাই হবে হয়ত! নাকি এটা তাদের ছন্নছাড়া জীবনের ছাঁচে গড়া অতি সাধারণ মুখচ্ছবির মিলবিন্যাস! আমার হাতে গরম খাবারের অনেকগুলো প্যাকেট, সুঘ্রাণে ম ম করছে। সোজা জটলার দিকে এগিয়ে গেলাম। যে দুটো ছেলে আমাকে দেখে এগিয়ে এসেছিল ওরা আমার পিছু নিয়েছে। জটলার প্রত্যেকটি শিশুই ভয়ানক ক্ষুধার্ত। অন্তত এই খাবারের স্বাদও যে তারা কখনো পায়নি তাতে কোন সন্দেহ নেই। আমি জানি ওরা এখনি হাত পাতবে আমার কাছে। ওদের সেই সুযোগটা আর দেইনি। তার আগেই প্যাকেটগুলো ওদের হাতে ধরিয়ে দিলাম। বাচ্চাগুলোর ছোট ছোট চোখগুলো বড় বড় করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। এরা হয়তো আজ নিজেদেরকে নিজেরাই বিশ্বাস করতে পারছে না। একজন অন্যের দিকে ফিরে ফিরে তাকাচ্ছে।  আশ্বস্ত করে প্যাকেট খুলে ধরলাম একঝাঁক পবিত্র প্রাণের সামনে। বিশাল ব্যস্ত রাজপথে ওরা রাজভোজন করছে। ওদের চোখেমুখে অদ্ভূত তৃপ্তি আর বিস্ময়। আমি জটলার পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য উপভোগ করছি।

 

জটলার মধ্য থেকে সবচেয়ে ছোট যে ছেলেটা সে উঠে এলো আমার কাছে। বয়স ৪ এরও নিচে হবে হয়ত বা। ছেলেটা দারুণ বিস্ময় নিয়ে হা করে আমার চোখাচোখি তাকিয়ে আছে। হাবভাব দেখে মনে হলো সে কিছু একটা বলতে চায়। শেষপর্যন্ত বলেই ফেললো,

– স্যার, আপনে কানদেন ক্যান??

চোখে হাত গেলো। একি! চোখে পানি? আমি যে কখন কাঁদতে শুরু করেছি তা নিজেও বলতে পারবো না। সাথে সাথে হেসে দিলাম। একটা মানুষ কান্নার পাশাপাশি কি করে হাসে তা হয়ত ছেলেটির জানা ছিলো না। তাই সে দ্বিগুণ বিস্ময়ে আমার দিকে চেয়ে আছে।

– না কিছু না এমনিই, যাও, তুমি ওদের সাথে গিয়ে খাও।

ছেলেটি আবার জটলায় ফিরে গেল। সেদিন চোখের পানি মুছতে গিয়ে বুঝলাম, পৃথিবীর সুখটা আসলে কোথায়। প্রিয়তমার সাথে হাতে হাত রেখে,  পেট ভরে খেয়েও যে সুখ এত দিন আমি পাইনি, আজ সেই সুখে আমার পৃথিবী যেন টৈটুম্বুর।

 

সেদিন উপলব্ধি হলো যে, আমরা কারণে অকারণে প্রতিদিন কত খাবারই না অপচয় করি। আমাদের অভাব নেই, অথচ আমাদের চারপাশে তাকালেই ক্ষুধার অভাব নেই, ক্ষুধিতের অভাব নেই! কেন এই বৈষম্য? পথের ধারে ছোট্ট শিশুটি যখন খেতে না পেয়ে দিনের পর দিন ভিক্ষের জন্য হন্যে হয়ে ছুটে বেড়ায়, কুকুরের মত লাথি-গুঁতো-তাড়া খায়, ক্ষুধা সইতে না পেরে ডাস্টবিনের উচ্ছিষ্ট অর্ধনষ্ট খাবার গলাধঃকরণ করে তখন আমাদের মরচ পড়া বিবেক কি একটুও নড়েচড়ে ওঠে না? প্রতিদিন পৃথিবীর কোথাও না কোথাও ক্ষুধিতের হয়। আমরা ক্ষুধিতের নয়, ক্ষুধার মৃত্যু চাই।

মতামত
লোডিং...