দু’টি কবিতা

 

যে উঠোন জাগে

নতুন পুস্পের মাঝে আমি খুঁজি পুরাতন সুরভী।

প্রত্নতাত্ত্বিকের মতো খনন করে আবিষ্কার করি সেই সে শহর।

জনপদ। কোলাহল। মানুষ। মানুষের অজস্র শোকের ছবি। সুখদ স্মৃতি।

নাকি পুরাতন আমি ভুল করে এসেছি চলে, তোমাদের নতুন শহরে?

কে আমি? উত্তরাধুনিক কোন কবির প্রচ্ছন্ন প্রশ্রয়?

নাকি, উত্তাপ উত্তালে ঊর্ধ্বভেদি কোন মাটিরই ফুল বা শীতল ছোয়া পদ্ম?

আপাতত ভুলে যাই কে বা কার আমি’র সকল শব্দ।

আপাতত ভাবছি, চিরতরে যেন হয়ে যাই সেই আমি’র উঠোন।

যে উঠোন জাগে হাজারো স্মারক উল্লাসে।

 

আরজুনামা

উত্তরের উতরোল হাওয়া কিংবা দখিনা বিষণ্ন বাতাস নয়।

হতে চেয়েছিলাম অচঞ্চল বৃক্ষ।

নিশীথের নিরবতায়,

প্রাচ্যে দণ্ডায়মান অথচ প্রাতীচ্যের দিকে অনিমিখ বৃক্ষ।

অনিকেত আশ্রমেই তন্নতন্ন করে খুঁজতে চেয়েছিলাম তোমার আশ্রয়।

অবনত মস্তকে মৃত্তিকা ছুঁয়ে ছুঁয়ে ফিসফিস করে পাঠ করতে চেয়েছিলাম তোমারই মহিমার তাসবিহ।

চেয়েছিলাম,

আঁখিযুগল ক্রমাগত সিক্ত করে সেজদার চাঁদরেই হতে প্রেমাশ্রুর নদ।

চেয়েছিলাম ধ্যানমগ্ন উপবিষ্ট এমন,

যেন আমি নিশ্চল পর্বত।

যে পর্বতের অন্তঃপ্রকোষ্ঠে ক্রমাগত অবিশ্রান্তধারায় বর্ষিত হবে তোমার রহস্যাবৃত জ্যোতি।

আমি ভুলে যাবো আমাকে। আমার আমিকে। আমিত্বকে।

পরম আমি’র সন্ধানজনিত অনিবার্য কারণে আমাকেই আমার মনে হবে আততায়ী।

নিজেরই রহস্যখননে আমি প্রত্নতাত্ত্বিক হবো।

যে আলো জ্বেলে গেছে কোন এক কবি মনভূমিতে,

চেয়েছিলাম সেই আলোতেই নিত্যনতুন ফসলের সুবাসে ভরপুর থাকুক অন্তরালয়।

চেয়েছিলাম আমাকে দাও এমন দৃষ্টি যেয়ারতের,

যাতে দেখি তোমার প্রেমাস্পদের মায়াবী সুরত। বারংবার।

সেই সুরতের সৌন্দর্যতত্ত্বের মত্ততায় ডুবে থাকবো ধ্যানে। খোয়াবে। আন্দোলিত হবো স্মরণে। জাগরণে।

 

মতামত
লোডিং...