ডক্টর এনামুল হক : জীবন ও সৃজন

বিগত শতকে বাঙালি মুসলমানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন যে কয়েকজন পণ্ডিত, তন্মধ্যে ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক উল্লেখযোগ্য।

গতানুগতিক সাহিত্যিক বা ঐতিহাসিক তিনি ছিলেন না— ছিলেন সাধারণ-অর্থে সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিকের পথিকৃৎ।

তিনি ‘বেহুদা পাণ্ডিত্যে বিশ্বাসী ছিলেন না’ বলে গৎবাঁধা পণ্ডিতদের চেয়ে ভিন্নতর অবস্থান তৈরি করেছেন। তিনি যখন সাহিত্য করেন তখন উঠে যান ধর্মের ঊর্ধ্বে; যখন ঐতিহ্য চিন্তা থেকে ইতিহাস লিখেন তখন আবদ্ধ থাকেন ধর্মে; অর্থাৎ, সর্ববিষয়ে ধর্মনিরপেক্ষতার যে বেসম্ভব ও শঠতাপূর্ণ ব্যাপার গতানুগতিক পণ্ডিত ও গবেষকদের বেলায় দাবি করা হয় তার ধারেকাছেও তিনি যাননি। সু-পণ্ডিত হিসেবে স্ব-সম্প্রদায় তথা বাঙালি মুসলমানের বহু দুষ্কর্ম তিনি সম্পাদন করেছেন যা তাঁকে অমর করে রাখবে।

 

বংশ পরিচয়: 

১৫৭৫ সালে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে শেখ জালাল হল্‌বি নামক এক মহাপুরুষ আসেন চট্টগ্রামে— বর্তমান হাটহাজারী থানার অন্তর্গত ফতেয়াবাদ নামক জায়গায়। তিনি স্থানীয় কাউকে বিয়ে করে সেখানেই স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন; এবং তাঁর আস্তানার নামানুসারেই সেই জায়গার নামকরণ হয় জালালাবাদ। ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হকের পারিবারিক শাজরা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়— মহাপুরুষ শেখ জালালের দশম অধস্তন পুরুষ ডক্টর হক। তাঁর পিতা ও পিতামহ উভয়েই ছিলেন জাঁদরেল আলেম— বিশেষত ‘কঠোরভাবে বেদাৎ বিরোধী’। তাঁর স্মৃতিচারণে শুনতে পাই: “আমার দাদা ছিলেন কঠোরভাবে বেদাৎ বিরোধী। সেখানকার যত দরগাহ্ তিনি ভেঙে উজাড় করেছেন। বাকীগুলো শেষ করেছেন আমার বাবা।”— এমন একটি পরিবারে ১৯০২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করা একজন ব্যক্তি A HISTORY Of SUFI-ISM IN BENGAL বিষয়ে পিএইচডি করেছেন— এটা কি আশ্চর্যের বিষয় নয়?

 

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা: 

ঐতিহ্যবাহী পরিবার হিসেবে পরিবারেই আরবি ফারসি শেখার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লেখাপড়ার হাতেখড়ি হলেও সাথে সাথে চলতে থাকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। কিন্তু ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াকালীন বাবার আকস্মিক ইন্তেকালে বন্ধ হয়ে যেতে পারতো পড়াশোনা— কিন্তু হয়নি। চাচার আশ্রয়ে লেখাপড়া চলতে থাকে নির্বিঘ্নে। ১৯১৫ সালে ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাকালীন ইংরেজি বৃত্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তৎপর ভর্তি হন চট্টগ্রামের প্রাচীনতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রামগতি রামধন আব্দুল বারী চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ে। সপ্তম শ্রেণিতে থাকাকালীন, ১৯১৬ সালে সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন তৎকালীন বঙ্গীয় মুসলিম সমাজের স্বাপ্নিক কবি ইসমাইল হোসেন সিরাজীর। ডক্টর হকের স্মৃতিচারণে: “তাঁর রায়নন্দিনী পড়বার পর আমার এত ভাল লেগেছিল যে আমি প্রায় সমস্ত ব‌ইখানা মুখস্থ করে ফেলেছিলাম। কাজেই তিনি যখন গ্রামে এলেন, তাঁকে আমার লেখা কবিতা পড়ে শোনাবার লোভ আমি সম্বরণ করতে পারছিলাম না। একদিন খুব ভোরে আমি তাঁর কাছে গিয়ে উপস্থিত হলাম। প্রথমে আমি তাঁকে তাঁর রায়নন্দিনী হতে খানিকটা মুখস্থ বলে শোনালাম। তিনি খুব খুশি হয়ে আমাকে আমার কবিতা পড়তে বললেন। …। আমার কবিতা পড়বার পর তিনি আমাকে আগামী দিনের উজ্জ্বল রত্ন বলে বর্ণনা করলেন।”— ইসমাইল হোসেন সিরাজীর এ ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়েছিল বলেই আজ তাঁর জীবনী নিয়ে গবেষণা হচ্ছে।

তারপর খেলাফত-অসহযোগ আন্দোলনের স্রোতে একজন তরুণ হিসেবে তিনিও ভাসেন। তখন তিনি বিভিন্ন গণজাগরণী সঙ্গীত লিখতেন— ১৯২২ সালে সে-সব সঙ্গীতের সংকলন ‘আবাহন’ নামক পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত হয়; তাও বে-নামে। পরবর্তীতে ‘আবাহন’র লেখক হিসেবে তাঁকে ইংরেজ গোয়েন্দারা সন্দেহ করে কিন্তু প্রমাণিত না হওয়ায় রেহাই পান; কিন্তু পুস্তিকাটি রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে নিষিদ্ধ হয়।

 

পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই সম্ভবত তিনি চট্টগ্রাম কলেজ থেকে আরবিতে অনার্স নিয়ে ১৯২৭ সালে দ্বিতীয় শ্রেণিতে প্রথম হন। তারপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি বিভাগে এম.এ.তে ভর্তি হন; কিন্তু বাংলা পড়ার প্রতি আগ্রহ জাগায় বাংলা বিভাগে স্থানান্তরের চেষ্টা চালান— তৎকালীন বাংলা বিভাগের সভাপতি ডক্টর দীনেশ চন্দ্র সেন তাঁর ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল দেখে সানন্দে ভর্তি করে নেন।

তখন পরীক্ষা হতো‌ ৮০০ নম্বরের, তন্মধ্যে বাংলায় ৫০০ এবং অন্যান্য ভাষায় ৩০০; তিনি উর্দুতে ২০০, ফারসিতে ৫০ ও পালিতে ৫০ পেয়ে তিনটি স্বর্ণপদক লাভ করেন। পূর্বের সকল রেকর্ড ভেঙে বাংলায় ৭০%, উর্দুতে ৯০%, ফারসিতে ৯৬% নম্বর পেয়ে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হিসেবে মনোনীত হন এবং ১৯২৯ সালে লাভ করেন জগত্তারিণী স্বর্ণপদক।

অতঃপর ডক্টর সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের অধীনে তিনি দীর্ঘ চার বৎসর পরিশ্রম, সাধনার মিশ্রণে HISTORY OF SUFI-ISM IN BENGAL বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর আর এ নিকলসন, প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জুলস ব্লক এবং পাঞ্জাব গুরুদয়াল সিং কলেজের আরবি-ফারসির অধ্যক্ষ ডক্টর কিশোরী-মোহন— এই তিন পণ্ডিতের সর্বসম্মতিক্রমে ১৯৩৪ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় পিএইচডি ডিগ্রি প্রদান করে।  এখানেই ইতি ঘটতে পারতো তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সফর; কিন্তু তিনি না থেমে আর‌ও এগিয়ে গেলেন। ১৯৩৬ সালে বি.টি.-তে ভর্তি হন এবং কৃতকার্যের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি ঘটে।

 

কর্মজীবন: 

ডক্টর হক কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি চলাকালীন অবস্থায় রামতনু লাহিড়ী গবেষক হিসেবে যোগদান করেন ১-৭-১৯৩৩— এ পদে বহাল ছিলেন ২১-৭-১৯৩৫ পর্যন্ত। ১৯৩৬ সালে বি.টি. ডিগ্রি লাভের পর মীরসরাই জোর‌ওয়ারগঞ্জ স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান; ১৯৩৭ সালে ‘বেঙ্গল এডুকেশন সার্ভিসে’ বিজ্ঞাপিত পদের জন্য পরীক্ষা দিয়ে কৃতকার্য হন এবং প্রধান শিক্ষক হিসেবে চারটি স্কুলে একের পর এক শিক্ষকতা করেন: চব্বিশ পরগনার বারাসাত সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়, হাওড়া জেলা স্কুল, মালদহ জেলা স্কুল এবং ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল।

দেশভাগের পর তাঁর ভাগ্যে শিকে ছিঁড়ল! একের পর এক উচ্চপদস্থ পদে নিয়োগ পেতে লাগলেন— পরিশ্রমের ফল যেন পেতে শুরু করলেন।

 

১৯৪৮— প্রধান অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী কলেজ।

১৯৫২— অধ্যক্ষ, ডেপুটেশন কলেজ, দৌলতপুর।

১৯৫৪— পূর্বপদে বহাল, রাজশাহী কলেজ।

১৯৫৫— চেয়ারম্যান, ইস্টবেঙ্গল টেক্সট বোর্ড, ঢাকা।

১৯৫৬— চেয়ারম্যান, ইস্টবেঙ্গল সেকেন্ডারি এডুকেশন বোর্ড।

১৯৫৬— পরিচালক, বাংলা একাডেমি।

১৯৬০— অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৬৩— পরিচালক, কেন্দ্রীয় বাংলা উন্নয়ন বোর্ড।

১৯৬৯— সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। (স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাঁর চাকরি চলে গেলেও স্বাধীনতার পর উক্ত পদে পুনর্বহাল হন।)

১৯৭৩— সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন।

১৯৭৫— উপাচার্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৭৭— পূর্বপদে বহাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৮১— সিনিয়র ফেলো, জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা। (আমৃত্যু)

 

এখানে একটা ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হচ্ছে, তিনি সানন্দে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হননি; তাঁকে জোর করা হয়েছিল। বড় ছেলে মুহম্মদ ইবনে ইনামের নিকট লেখা চিঠিতে লিখেছেন: “বঙ্গবন্ধু আমাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের Vice-Chancellor করিয়াছেন,—না করেন নাই, জোর করিয়া কাঁধে চাপাইয়াছেন। আমি কিছুতেই বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত অনুরোধ—, না অনুরোধ নহে, চাপ এড়াইতে পারি নাই। এই গুরুদায়িত্ব স্বীকার করিয়াই গণভবন হ‌ইতে ফিরিয়া আসিতে হ‌ইয়াছে।”— এই চাপিয়ে দেওয়া দায়িত্ব তিনি বেশিদিন পালন করেননি; ১৯৭৬’র ৩০ এপ্রিল তিনি ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দর্শিয়ে পদত্যাগ করেন।

 

গবেষণা: 

ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণা করেই তিনি পণ্ডিতরূপে বরিত হয়েছেন। তাঁর গবেষণা শুরু হয়েছে মূলত পিএইচডি থেকে; আমৃত্যু অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে করে গিয়েছেন। তাঁর গবেষণা-গ্রন্থের একটি তালিকা:

১. বঙ্গে সূফী প্রভাব : কলিকাতা, ১৯৩৫

২. আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য : ১৯৩৫

৩. চট্টগ্রামী বাঙ্গালার রহস্যভেদ : চট্টগ্রাম, ১৯৩৫

৪. পূর্ব পাকিস্তানে ইসলাম : ঢাকা, ১৯৪৮

৫. মুসলিম বাংলা সাহিত্য : ঢাকা, ১৯৫৭

৬. A HISTORY OF SUFI-ISM IN BENGAL : Asiatic Society Of Bangladesh, 1975

৭. মনীষা-মঞ্জুষা : প্রথম খণ্ড, ঢাকা, ১৯৭৫

৮. মনীষা-মঞ্জুষা : দ্বিতীয় খণ্ড, ঢাকা, ১৯৭৬

৯. মনীষা-মঞ্জুষা : তৃতীয় খণ্ড, ঢাকা, ১৯৮৪

 

গুণীজনদের মূল্যায়ন:

 

১. অধ্যক্ষ ইব্রাহীম খাঁ:

“কথায় নির্ভরযোগ্য, কর্তব্যে যত্নশীল। বিচারে নিরপেক্ষ। অধ্যয়নে অক্লান্ত। গবেষণায় উদারব্রতী। দেহে, মেজাজে, গ্রন্থের বিষয় নির্বাচনে, ভাষায়, রচনাশৈলীতে ক্লাসিকাল।”

 

২. অধ্যাপক আবুল ফজল:

“একটা বাড়ি করবেন বলে ঢাকায় জমি কিনেছেন খানিকটা। কিন্তু তদ্বিরের অভাবে বাড়ির প্ল্যান আর কিছুতেই মঞ্জুর হয় না। ছেলে মাস কয়েক হাঁটাহাঁটি করে শেষে বিরক্ত হয়ে বাপকে বলে : কয়েকশ’টাকা দিলেই তো প্ল্যানটা একদিনেই পাশ হয়ে যায়। টাকা ত আমি দেবো, আপনাকে তো আর যেতে হচ্ছে না। কত লোকেই তো এভাবে পাশ করিয়ে ঘর পর্যন্ত তুলে ফেলল। শুনে বাপ ক্ষিপ্ত হয়ে বলে উঠলেন : তা হলে আমাকে বাপ না ডেকে ওদেরে বাপ ডাকোগে না কেন? এমন বাপের ছেলে হ‌ওয়া যে কি দায় ছেলে হযতো এবার তা ভালো করেই টের পেলো।”

 

৩. অধ্যাপক আহমদ শরীফ:

“ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হকের ভাবচিন্তায় কর্মে আচরণে পোশাকে আলাপে আড্ডায় কিংবা ঘরোয়া সামাজিক জীবনে প্রাত্যহিকতার মধ্যেই তাঁর জগৎ-চেতনার ও জীবন-ভাবনার বৈশিষ্ট্য আভাসিত হয়েছে। তাতে ছিল সুদৃঢ় নৈতিক চেতনা, নিয়মনীতি নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ, কর্তব্য-বুদ্ধি, বহুজনহিত ও বহুজন সুখচিন্তা, আত্মসম্মানবোধ, ন্যায়বুদ্ধি ও বিবেকানুগত্য। সর্বোপরি ছিল সংস্কারমুক্তি। মুহম্মদ এনামুল হক ছিলেন স্থির-বিশ্বাসের ও ধীরবুদ্ধি মানুষ।”

 

৪. অধ্যাপক মুস্তাফা নূরউল ইসলাম:

“… কিছুকাল পরে এসেছিলেন ড. মুহম্মদ এনামুল হক। অতি কাছের থেকেই পেয়েছি তাঁকে। সর্বার্থেই সিরিয়াস চরিত্রের এবং এক কথার মানুষ। মতে মিলল না, আপস কাকে বলে তাঁর অভিধানে যেন নেই তা। কট্টর ন্যায়-নীতিবাদী, নিয়ম-শৃঙ্খলানিষ্ঠ, পান থেকে চুন খসল কী মাফ নেই। এই বলে তিনি শেখাতেন আমাদেরকে, ‘ইংরেজের আপিসে তো কাজ করোনি, তাহলে বুঝতে সিসটেম ব্যাপারটা কী, ডিসিপ্লিনের মানে মরতবা কী।’ সেবার শহর থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত সারাটা এলাকাজুড়ে সর্বাত্মক স্ট্রাইক হরতাল। তার‌ই মধ্যে সাহেববাজারের লাগোয়া মিয়াপাড়াতে তাঁর বাসা থেকে ড. হক পায়ে হেঁটে চলে এসেছেন এতটা পথ ক্যাম্পাসে ডিপার্টমেন্টে। এসেই খোঁজ নিয়েছেন আমরা সবাই হাজির রয়েছি কিনা। ছাত্রছাত্রী ক্লাশে আসেনি, তাতে হয়েছেটা কী? শিক্ষক যিনি, যথাসময়ে আসতেই হবে তাঁকে। পড়ানো নেই তো লাইব্রেরিতে গিয়ে নিজের পড়াশোনা কর। তেমন বেশিদিন এখানে থাকেননি তিনি। তবে এই স্বল্প সময়েই নড়ো-বড়ো আমাদের ডিপার্টমেন্টটা শক্ত ভিত্-এর উপর দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন।”

 

তথ্যনির্দেশ:

১. অন্তরঙ্গ আলোকে : আ. ন. ম. গোলাম মোস্তফা, দৈনিক আজাদ, ৩০ জুলাই, ১৯৬৭

২. দিগন্তে জাগি একা : হাসিনা রউফ, দৈনিক পাকিস্তান, ২৮ আশ্বিন, ১৩৭৪

৩. বাতায়ন : ইবরাহীম খাঁ, ঢাকা, ১৯৬৭, ৬১৯ পৃষ্ঠা

৪. লেখকের রোজনামচা : আবুল ফজল, ঢাকা, ১৯৬৯, ১৮৩ পৃষ্ঠা

৫. ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক : আহমদ শরীফ, ভাষাপত্র, এনামুল হক স্মারক সংখ্যা, ৬ পৃষ্ঠা

৬. নিবেদন ইতি উত্তরখণ্ড : মুস্তাফা নূরউল ইসলাম, অন্যপ্রকাশ, ২০০৭, ৯৫ পৃষ্ঠা

 

সহায়িকা:

ডক্টর মুহম্মদ এনামুল হক : জীবন-কথা :  ‍মুহম্মদ মজির উদ্দীন, ভাষা-সাহিত্য পত্র, নবম বর্ষ, ১৩৮৮ সংখ্যায় প্রকাশিত।

মুহম্মদ এনামুল হক : মোহাম্মদ আবদুল কাইউম, বাংলা একাডেমী, ১৯৮৭

 

মতামত
লোডিং...