সেদিনকার ট্র্যাজেডি এড়ানো যেত!

অমর একুশে ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে পুনঃপ্রকাশিত

ভাইস চ্যান্সেলর সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেনের কথা বলতে যেয়েই অধ্যাপক রাজ্জাক বললেন: ১৯৫২-তে ভাষা আন্দোলনের সময়ে, আর কিছুর জন্য নয়, সাহসের অভাবে, হি অকেজন্ড মাচ ট্রাবল। আমার মনে আছে যেদিন গুলিটা হলো, ইউনিভার্সিটির ঐ পুরানা দালানে (বর্তমান মেডিকেল কলেজ হসপিটাল বিল্ডিং-এর দক্ষিণ দিক) ছাত্র-শিক্ষক সব মিলিং এ্যারাউন্ড। একবার হঠাৎ এই ভিড়ের মধ্যে তাঁর সঙ্গে আমার দেখা। ছাত্ররা প্রসেশন করে বাইরে যাবার চেষ্টা করছে। রাস্তার পাশের গেট বন্ধ করে দিয়ে তাদের কোন রকম ঠেকাবার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি বললাম— সৈয়দ সাহেবকে, ইট ক্যান ইজিলি বি হ্যান্ডলড।

: কেমনে ?

আমি বললাম : এইগুলো ছেলেরা করছে ক্যান ? দে হ্যাভ নো কনফিডেন্স ইন ইউ। আপনি তাদের সঙ্গে আছেন, এই বিশ্বাস তাদের নাই। এই বিশ্বাস যদি তাদের হয় তাহলে নিশ্চয়ই তারা এক্সট্রিমে যাবে না। সৈয়দ সাহেব বললেন : আমার কি করতে হবে? আমি বললাম, আপনি ছেলেদের বলুন যে, ইট ইজ ইনএ্যাডভাইজেবল টু গো আউট ইন প্রসেশন। তবে তোমরা যদি প্রসেশন নিয়ে বার হও, তবে সে প্রসেশন আমিই লিড করবো। আপনি ভি.সি. হিসেবে যদি বাইরে যান তবে পুলিশ নিশ্চয়ই গুলি করবে না। করতে পারে না এবং ছেলেদের ইমোশন ক্যান বি কামড ডাউন। তাদের শান্ত করা যায়। এই কথা আমি সৈয়দ সাহেবকে বলবার লাগছি, এমন সময়ে এক কলিগ, সিনিয়র শিক্ষক, তিনি এখনো ইউনিভার্সিটিতে আছেন, তিনি এসে জিগ্যেস করলেন, রাজ্জাক কি বলছে? সৈয়দ সাহেব রিপোর্ট করলেন : রাজ্জাক সাহেব তো এই বলছে। আমি বললাম : হ্যাঁ, আমি একথা এখনো বলি। একথা শুনে আমার সেই কলিগ উড়িয়ে দিলেন : না, এসব কি কথা? চলুন আমার ওদিকে যাই।

সেদিনের ঘটনা স্মরণ করে অধ্যাপক রাজ্জাক আমাদের কাছে আবার বললেন : আই রিমেইন স্টিল কনভিন্সড যে, সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন যদি সেদিন একথা বলতেন, তাহলে সেদিনকার ট্র্যাজেডি এড়ানো যেত!

অধ্যাপক রাজ্জাকের কথা শুনে আমি বললাম : তাঁর কাছ থেকে এমন ডিসিশন আশা করা কি একটু বেশি আশা করা নয়?

অধ্যাপক রাজ্জাক বললেন : না, ব্যাপার হচ্ছে : ছাত্রদের তাঁর বিরুদ্ধে গ্রিভ্যান্স ছিলো যে, তিনি ছাত্রদের এক কথা বলেন, বাইরে আর এক কথা বলেন। পুলিশের এস.পি. তখন ইদ্রিস। আমার মনে আছে, গেটের সামনে ছাত্ররা পুলিশকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করছে। আমি গেটের সামনে গেছি। ইদ্রিসকে দেখলাম গেটের বাইরে। ইদ্রিস ওয়াজ ওয়ান অব মাই আরলি স্টুডেন্টস। আমি তাকে চিনি। আমি একবার গেটের বাইরে গেলাম। দেখলাম, ইদ্রিস খুব এক্সাইটেড হয়ে ছাত্রদের বলছে : আপনারা যদি এরকম করেন, আমি গুলি করার অর্ডার দেব। এই কথা শুনে আই ওয়াজ এক্সট্রিমলি শকড। আমি ইদ্রিসকে ডেকে বললাম : আপনি কি কইলেন? ইদ্রিস আমাকে দেখে একটু ঘাবড়ে গেল। আমতা-আমতা করে বললো : কি বলেছি স্যার? আমি বললাম, আমি শুনেছি আপনি বলেছেন, গুলির অর্ডার দিবেন! তখন সে নরম হয়ে বললো : আই ডিড নট মিন ইট স্যার। আমি বললাম, আপনার ফৌজ আছে সামনে। আপনি এস.পি. কিংবা এ্যাডিশনাল এস.পি.। আপনি যে এরকম বলতে পারেন, আমি ভাবতে পারি নাই। ডোন্ট ইউ আন্ডারস্ট্যান্ড, আপনার এই বলার এফেক্ট কি হতে পারে ?

: না স্যার, আমি এটা মিন করি নাই।

অধ্যাপক রাজ্জাক আমাদের বললেন, একথা বলছি আমি আজ এজন্য যে, আমি মনে করি, ইট ওয়াজ পসিবল টু এ্যাভয়েড দি ট্র্যাজেডি, অন্তত ঐদিন। পুলিশ, প্রসেশন বার করতে দিতে চায় না। কিন্তু ভাইস চ্যান্সেলর মোয়াজ্জম হোসেন সাহেব যদি প্রসেশনের সামনে থাকতেন, তাহলে নিঃসন্দেহে পুলিশ তার তাৎপর্যটা বুঝতে এবং যা ঘটেছে তা ঘটতো না। বাঙালি যে অফিসারই থাকতো, তারা ঢাকা ইউনিভার্সিটির ভিসি’র গায়ে হাত তুলতে পারতো না। আমার সঙ্গেও একটি বাঙালি অফিসার কথা বলতে একটু সমীহ না করে পারে না।

আমি জিগ্যেস করলাম, স্যার ওদিনই কি ফায়ারিং হয়েছিলো?

: হা, ওদিনই শেষে ফায়ারিং হলো। সেদিন ফায়ারিং-এর সময়ে আমি ইউনিভার্সিটির কম্পাউন্ডে ছিলাম না। সকাল থেকেই গণ্ডগোল চলছে। তিনটা গেটেই জমায়েত। আমরা দেওয়ান বাজারের দিকের গেটে। বেলা সাড়ে বারটার সময়ে দেয়ার ওয়াজ এ লাল এবং ভেরি স্টুপিডলি আই কনকুডেড দ্যাট এ্যাট লিস্ট ফর দ্যাট ডে, দি থিং ইজ ওভার। সাড়ে সাতটার দিক থেকেই আমি এদিকে ঘুরছি। আমি তখন থাকি তাঁতখানা। সাড়ে সাতটা থেকেই এ অবস্থা। আই ফেল্ট সো টায়ার্ড। আমি দুপুরের দিকে বাসায় চলে যাই। গুলিটা হয়েছে আড়াইটার দিকে। আমি তাঁতখানা থেকে শুনলাম যে গুলি হয়েছে।

সঙ্গী ফজলে রাব্বি কাহিনী শুনতে শুনতে আমার কথা উল্লেখ করে বললেন : সরদার সাহেব তখন কোথায় ?

অধ্যাপক রাজ্জাকের খেয়াল আছে। তিনি বললেন : সরদার তো তখন জেলে।

আমি বললাম : হ্যাঁ, স্যার, আপনি ঠিকই বলেছেন। আমি তখন জেলে। আমি এ্যারেসটেড হয়েছিলাম ’৪৯-এর ডিসেম্বরে। তখন থেকেই জেলে।

অধ্যাপক রাজ্জাক বললেন : এর কয়েকদিন পরেই বোধহয় মুজাফফরকে ধরে নিয়ে গেল, মুনীরকে ধরে নিয়ে গেল।

আমি বললাম, অজিত গুহ, পৃথ্বিশ চক্রবর্তী এঁরাও গ্রেফতার হয়েছিলেন। কিন্তু স্যার, বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষকরা গ্রেফতার হয়েছিলেন, এদের কি ভাষা আন্দোলনে কোন সক্রিয় ভূমিকা ছিলো ?

অধ্যাপক রাজ্জাক বললেন : এঁদের কারোরই ভাষা আন্দোলনের ব্যাপারে কোন লিডিং পার্ট ছিলো, এমন বলা চলে না। ’৫২-এর ব্যাপারে শিক্ষক সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে কেউ যে তেমন প্রমিনেন্ট পার্ট নিয়েছেন, এমন মনে পড়ে না। একুশে ফেব্রুয়ারি মোর অর লেস সবাইকে এ্যাফেক্ট করেছিলো। কিন্তু কোন শিক্ষক যে এর পেছনকার অরগানাইজার ছিলো, এমন নয়। কেউ না। মুনীরও নয়। মুজাফফরও নয়। পরে শুনি মুজাফফরের এ্যারেষ্টের কারণ।

আমরা জিগ্যেস করলাম : কি কারণ ছিলো ?

: মুজাফফর তখন প্রক্টর ছিলো এবং দেওয়ান বাজার সাইডে ইউনিভার্সিটি গেটে তার বাসা ছিলো। বাসার নিচের ঘরে, প্রক্টরের অফিসে একটা টেলিফোন ছিলো। এই টেলিফোনটা যে কেউ ব্যবহার করতো। এবং এই টেলিফোন থেকে আওয়ামী লীগ অফিসে ফোন যেত। দিস মোস্ট প্রবাবলি ওয়াজ দি বেসিস ফর হিজ ইনকারসেরেশন। এরা যে এগিয়ে যেয়ে সট মার্টায়েৰ্ডম, তা নয়। নাইদার মুজাফফর, নর মুনীর। ইনফ্যাক্ট মুনীর ডিলিবারেটলি ডিউরিং দিস টাইম ট্রাইড টু আন্ডারপ্লে হিজ এ্যাসোসিয়েশন উইথ পলিটিক্যাল মুভমেন্টস। তার ভাব ছিলো, আমি এসবের মধ্যে থাকতে চাই না। আই থিংক হি মেন্ট ইট। ভাষা নিয়ে যে সমস্ত গোলমাল হয় তাতে কোন একজন শিক্ষকের নাম নিয়ে বলতে পারবো না যে, হি ওয়াজ হার্ট এ্যান্ড সোল ডেডিকেটেড টু ইট। আই থিঙ্ক ’৫২ জাস্ট ডেভেলপডড। এ নিজের গতিতে ঘটেছে। এ খুব যে পূর্ব পরিকল্পিত ছিলো, এমনও মনে হয় না। কয়েকদিন আগ থেকেই ট্রাবল ডেভেলপ করছিলো। …

এখানে অধ্যাপক রাজ্জাককে আমরা একটা প্রশ্ন করলাম : স্যার, ফায়ারিংয়ের পরে ভি.সি. কি শিক্ষকদের মিট করেছিলেন?

অধ্যাপক রাজ্জাক বললেন : হ্যা রিভালশন অব ফিলিং ওয়াজ কমপ্লিট, দেয়ার ওয়াজ নো আসপেক্ট অব লাইফ দ্যাট ডিড নট ফিল ফর দি স্টুডেন্টস, এ্যান্ড হুইচ ওয়াজ নট এ্যান্টিগভর্নমেন্ট। সবচেয়ে রিমার্কেবল ব্যাপার হলো, ’৫২-এর ফেব্রুয়ারির ঘটনাতে ঢাকা শহরের স্থানীয় সাধারণ মানুষের ফিলিং অব সিমপ্যাথি ফর দি স্টুডেন্টস। সমস্ত শহরটাই ছেলেদের পক্ষে ছিলো। ইট ওয়াজ অল স্পনটেনিয়াস। সব স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু ছাত্রদের জন্য ঢাকার সাধারণ মানুষের এই যে সহানুভূতি, এটা পরবর্তীকালে নষ্ট হয়েছে বলেই আমার ধারণা। এখন আর তেমন নাই। দিস ওয়াজ প্রোবাবলি দি লাস্ট মেনিফেস্টেশন অব দি ফিলিং বিফোর ঢাকা লস্ট ইটস ওল্ড কারেক্টার। ঢাকার সেই পুরনো চরিত্রও আজ আর নাই। শিক্ষকরা আন্দোলনকারী ছিলো না। কিন্তু তাদের মধ্যে এমন কাউকে লক্ষ্য করি নাই যার ভাষা আন্দোলনের ব্যাপারে কোন রিজার্ভেশন ছিলো।

আমরা আর একটি প্রশ্ন করলাম : শিক্ষকরা মিলিতভাবে কি এই ফায়ারিং-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিলেন?

অধ্যাপক রাজ্জাক বললেন : হ্যাঁ, দেয়ার ওয়াজ এ মিটিং অব দি টিচার্স। সেই মিটিংয়ে সকলেই ছিলো।

: ভি.সি. ছিলেন ?

: না, সে ছিলো না। মুনীর, মুজাফফর এরা তখনো কেউ এ্যারেস্টেড হয় নাই।

অধ্যাপক রাজ্জাক আর একটু বিস্তারিতভাবে বলতে যেয়ে বললেন : ঘটনাটা আমার মনে আছে এই জন্য যে, ডঃ শহীদুল্লাহ সাহেব তখন টিচার্স এসোসিয়েশন-এর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। আমি ভাবছিলাম, কোন রিজোল্যুশন শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে নেওয়া হলে তিনি কি খুশি মনে তা মেনে নিতে পারবেন, হোয়েদার হি উড ফিল হ্যাপি। তাই আমি আর মযহার সাহেব (সরওয়ার ছিলো কিনা মনে নাই), আমরা ডঃ শহীদুল্লাহর কাছে যেয়ে বলি, আমরা শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে মার্ডার অব দি স্টুডেন্টসকে কনডেম করে, ‘ছাত্র হত্যাকে’ নিন্দা করে প্রস্তাব নেব। আপনাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে এই রিজোল্যুশন মুভ করতে হবে। দেখলাম, ডঃ শহীদুল্লাহ মার্ডার কথাটা মানতে রাজি হলেন না। তিনি বললেন : ‘মার্ডার’ কথাটা কওয়ার দরকার কি ? আমরা বললাম, না। ‘মার্ডার’ কথাটা থাকতে হবে। তিনি আবার যখন বললেন : ‘মার্ডার’ কথাটা ঠিক হবে না, তখন আমরা বললাম, স্যার, আপনি তাহলে মিটিংয়ে উপস্থিত না থাকলেন। তাতে ডঃ শহীদুল্লাহ বললেন : আচ্ছা তাই হবে। আমি মিটিংয়ে থাকবো না। পরের দিন আমরা মিটিংয়ে উপস্থিত হলাম।

আমি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বিল্ডিংয়ের পূর্ব দিকে দোতলায় পুরনো দিনের শিক্ষকদের কমনরুমের উল্লেখ করে অধ্যাপক রাজ্জাককে জিগ্যেস করলাম : মিটিংটা কি পুরনো দালানের সেই পূর্ব পাশের কামরাতে হয়েছিলো।

অধ্যাপক রাজ্জাক বললেন : না, তার বিপরীত দিকে একটা বড় ঘর ছিলো। এটাতেই পরবর্তীকালে মনজুর কাদেরকে ছেলেরা নাজেহাল করেছিলো। মিটিং এ ঘরে হয়েছিলো।

এই প্রতিবাদ সভার কথা বলতে যেয়ে অধ্যাপক রাজ্জাক বললেন : সকলে ঠিক করলো, মিটিং প্রিসাইড করবো আমি। আমরা মিটিং শুরু করবো। নিয়ম মাফিক কে যেন আমার নাম প্রস্তাব করলো : ঠিক এই সময়ে ডঃ জুবেরী এসে উপস্থিত হলেন। ডঃ জুবেরীর সঙ্গে আগে আমাদের কোন কথা হয় নাই। কিন্তু তিনি এসে প্রেসিডেন্টের চেয়ারে যেয়েই বসলেন। আমরা প্রথমে একটু থতমত খেলাম। তারপর আমি যেয়ে তাঁকে রিজোলিউশনটা দেখালাম। আমি বললাম : এই রিজোলিউশনটা প্লেস করা হবে। এবং আপনি যখন প্রিসাইড করছেন তখন চেয়ার থেকে এই রিজোলিউশনটা আপনি মুভ করবেন। তিনি ‘মার্ডার’ কথাটা দেখে আপত্তি করলেন। আমি বললাম, না, এই রিজোলিউশনটাই নেওয়া হবে। এই সময়ে ইকনমিক্সের প্রফেসর আয়ারও বললেন, মার্ডার কথাটার দরকার কি? ‘ডেথ’ শব্দটা ব্যবহার করলেই তো হয়। দোজ টু আর সিনোনিমাস। একথা শুনে আমি বললাম, সিন্স হোয়েন মার্ডার এ্যান্ড ডেথ হ্যাভ বিকাম সিনোনিমাস? আয়ার অমনি চুপ করে গেলেন। আর কিছু বললেন না। তখন জুবেরী সাহেবও সমাবেশের অবস্থা দেখে আর কিছু বললেন না।

আমি প্রশ্ন করলাম : কিন্তু তিনি, মানে জুবেরী সাহেব কি মিটিং ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন ?

অধ্যাপক রাজ্জাক বললেন : না। তিনি, রিজোলিউশনটা মুভ করলেন। এই মিটিংয়ে মুনীর ও মুজাফফর বক্তৃতা দিল। আমি বক্তৃতা দিলাম না। আমি ডঃ জুবেরীর পাশে দাঁড়িয়ে রিজোলিউশনটার দিকে খেয়াল রাখছিলাম। বক্তৃতার ব্যাপারে মুজাফফর স্পোক স্ট্রংলি, এজ হি ইউজুয়ালি ডাজ এবং মুনীর স্পোক, ইফ নট স্ট্রংলি, এ্যাট লিস্ট ভেরি এফেক্টিভলি এবং বোধহয় সরওয়ার মুর্শেদও বক্তৃতা করেন।

আমি প্রশ্ন করলাম : তখন ডঃ জুবেরী ইউনিভার্সিটির কি ছিলেন?

: তিনি ইংরেজির চেয়ারম্যান এবং ডিন অব আর্টস ছিলেন।

: এ্যাটেন্ডেন্স কি রকম ছিলো?

: এ্যাটেন্ডেন্স বেশ বড় ছিলো। সমস্ত ঘরটা প্যাকড-আপ ছিলো। রিজোলিউশনটা বোধহয় কাগজে বেরিয়েছিলো। তখনকার কাগজে থাকতে পারে।

অধ্যাপক রাজ্জাক, মুনীর চৌধুরী এবং মুজাফফর চৌধুরীর গ্রেফতারের ব্যাপারে আর একটু বলতে যেয়ে বললেন : টিচার্সদের এ্যারেস্টের ব্যাপারে আমার মনে হয়, মুনীরের আগেই একটা রাজনীতিক ব্যাকগ্রাউন্ড ছিলো। মুজাফফরের টেলিফোনের ব্যাপারটা ছিলো। এসব মিলিয়েই এদের এ্যারেস্ট ঘটেছে বলে আমার মনে হয়। ইউনিভার্সিটির এ্যাডমিনিস্ট্রেশনের দিক থেকে সৈয়দ মোয়াজ্জম হোসেন ওয়াজ প্রাইমারিলি কনসার্নড দ্যাট দি ইউনিভার্সিটিডাজ নট সাফার। তবে আবার ছাত্র মেরেছে, এটাও আনপ্রেসিডেন্টেড। ইট মুভড হিম এজ মাচ ডিপলি এ্যাজ ইট মুভড আজ। এরা এ্যারেস্ট হয়ে যাওয়ার পরে ইউনিভার্সিটির মেইন কনসার্ন ওয়াজ নট সো মাচ দি ল্যাংগুয়েজ মুভমেন্ট, এ্যাজ দি এ্যারেস্ট অব দি টিচার্স।

 

(ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক-এর আলাপচারিতা : সরদার ফজলুল করিম, সাহিত্য প্রকাশ, ১৯৯৩, ৯২-৯৬ পৃষ্ঠা থেকে সংগৃহীত; প্রকাশনা কর্তৃপক্ষের নিকট আমরা ঋণী।)

 

মতামত
লোডিং...