‘বাঙ্গালাহ’ ও বাংলাদেশের মুসলমান সম্পর্কে কিছু ‘চাইনিজ’ তথ্য || মুঈন উদ-দীন আহমদ খান 

সম্পাদকের নোট:

বাংলাদেশের ইতিহাসবিদদের মধ্যে যিনি স্বতন্ত্র ও বিশিষ্ট, উস্তাদ মুঈন উদ-দীন আহমদ খানের Social History of the Muslims of Bangladesh under the British Rule বইটি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে ১৯৯২ সনে; গতানুগতিক দৃষ্টিভঙ্গির বাহিরে গিয়ে ইতিহাসকে দেখার যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তাঁর রয়েছে, এর নিদর্শন হিসেবে বইটিকে সাক্ষীরূপে হাজির করা যায়। ১১টি অধ্যায়ে (chapter) বইটি বিভক্ত; প্রতিটি অধ্যায়ের ভেতরেও আবার ‘সেকশন’ আছে। অর্থাৎ, ব্রিটিশ আমলে বাঙালি মুসলমানের সামাজিক ইতিহাস- কূটনীতি, রাজনীতি ও আধুনিকতার ছকে ফেলে স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গির জোরে বেশ খতিয়ে দেখেছেন তিনি। চমকপ্রদ সব তথ্যের সাথে উঠে এসেছে কিছু কেমিস্ট্রিও। ফলে, ইতিহাসের জায়গা থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সন্দেহ নেই। বইটির দুষ্প্রাপ্যতা ও পাঠক-চাহিদার কথা মাথায় রেখে সাহিত্য সওগাত বঙ্গানুবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইংরেজি বর্ণমালা থেকে চাইনিজ উচ্চারণ বাংলায় আনা বেশ মুশকিলের ব্যাপার, আবার বিপত্তিও কম নেই; তাই নামের ক্ষেত্রে মূল বইতে ব্যবহৃত ইংরেজি বর্ণমালা হুবহু রাখা হয়েছে। মূলভাব ঠিক রেখে সহজাত ভঙ্গিমায় বয়ানের দিকেই অনুবাদকের ঝোঁক। আশা করি, পাঠক সাদরে গ্রহণ করবেন এবং সানন্দে পরামর্শ দেবেন।

 

প্রথম অধ্যায় – প্রথম ভাগ

১৯৬৫ সালে, তৎকালীন প্রত্নতত্ত্ব প্রতিষ্ঠান একাডেমিয়া সিনিকা (Academia Sinica’)’র পরিচালক জিয়া নাই (Hsia Nai) বেইজিং হতে A Historical Sketch of the Friendship Between China and Pakistan নামক একটি বই প্রকাশ করেন। এতে বিজ্ঞ লেখক বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং বাংলাদেশের মুসলমানদের কল্যাণের জন্য কয়েকটি নতুন বিষয় উল্লেখ করেছিলেন। প্রথমত, তিনি ত্রয়োদশ খ্রিস্টাব্দের প্রথম দিকের এক কূটনৈতিক রেকর্ডের কথা উল্লেখ করেছেন, যা পূর্ব-ভারতে “পেং-চিয়া-লো” (Peng-chia-lo) নামে একটি নতুন রাজত্বের উত্থানের বিষয়ে নির্দেশ করে। মূলত ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের দিকে মুসলিমদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ‘বাঙ্গালাহ’ রাজ্যের প্রতি ইংগিত করা হয়েছে। দলিলে ‘পেং-চিয়া-লো’ শব্দটির ব্যবহার অত্যন্ত আকর্ষণীয়। উত্তর, দক্ষিণ ও মধ্যভূমি চাইনিজে এটি বিভিন্নভাবে উচ্চারিত হতে পারে: যেমন- পেং-চিয়া-লো, মিং-চিয়া-লো এবং বং-চিয়া-লো। এটি যদি আরবি-ফার্সিতে উচ্চারিত হয় তবে তা  ‘বঙ্গালাহ’ ( بنغالة ); আরবী ভাষাশৈলীর উচ্চারণে ‘বেঙ-আল-আহ’ ( بنغالة বা  بنجالة )।

 

আল্লামা আবুল ফজলের আইন-এ আকবরিতে ‘বং’ এর উচ্চারণ ‘বাং’ উল্লেখ করা হয়েছে। ‘আল’ বা ‘আইল’ এর সংমিশ্রণের মাধ্যমে এই দেশের নাম ‘বং-আল’ করা হয়েছিল যা আরবীতে ‘বাঙাল’ এবং সংস্কৃতিতে ‘বঙ্গোলো’ হিসাবে উচ্চারিত  হয়। যদি আমরা ‘বং’ এর অর্থ ‘জল’ এবং ‘আল’কে ‘বাঁধ’ হিসাবে গ্রহণ করি, তবে ‘বং-আল’ অর্থ হবে একটি বাঁধ দ্বারা পরিবেষ্টিত জলের ভূমি। সম্ভবত পূর্বভারত বিজয়ের সময় মুসলিম বিজয়ীরা কিছু লোকালয়ের নাম ‘বং-আল’ রেখেছিলো। তাই পরবর্তিতে ইংরেজ বিজয়ীরা এই নাম ব্যবহার করে।

 

আবুল ফজলের তথ্যের মাধ্যমে সহজেই বোঝা যায় যে, আরবি-পার্সিয়ান শব্দভাণ্ডারে ‘বাঙাল’ শব্দ দ্বারা বাংলার দেশকে বোঝায়। আরবিতে দেশ বলতে ‘মুলক’ বোঝানো হয়, তাই ‘মুলক বাঙ্গাল’ অর্থ ‘বাংলার জমি’; ‘মুলক’ এবং ‘বাঙাল’ উভয়ই পুংলিঙ্গ।  তবে ‘বাঙ্গালাহ’ বা ‘ব্যাং-আল-আহ’ শব্দটি ‘আহ’ বা `at’ ( بنغالة এর بنجالة ) সহ স্ত্রীলিঙ্গ, তাই এটি ‘মুলক’ এর সমন্বয় হতে পারে না। সুতরাং, এটি অবশ্যই ‘দাওলা’ (বাস্তব) বা রাজ্য বা সালতানাত (বৈধ রাষ্ট্র) এর সঙ্গে মিশ্রণ হতে হবে। পরবর্তীতে অবশ্য বাঙ্গালাহ সালতানাত ‘বাঙ্গালাহ’ হয়ে ওঠে যখন এটি সালতানাত বা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষিত হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা দেখা দেয় এই প্রশ্ন নিয়ে যে, চীনা দলিল মতে ত্রয়োদশ খ্রিস্টাব্দের প্রথমার্ধেই কি বাংলা ‘সালতানাত’ (রাষ্ট্র) হিসাবে মর্যাদা অর্জন করেছিল?

 

প্রসঙ্গত লক্ষণীয় যে, ‘বং’ এবং ‘আল’ আদিবাসী বাংলা শব্দ;  মূলত তিব্বতি, কোল বা ভোট চাইনিজ হতে পারে; যদি এর আরবীকরণ করা হয় তবে এটি ‘বাঙাল’ হয়ে যায়, ‘বং’ পরিবর্তিত হয়ে ‘ব্যাং’ এবং যখন এটি স্ত্রীলিঙ্গ ‘সালতানাত’ বা রাজ্যের সংমিশ্রণ হিসাবে আরবি ভাষায় পরিণত হয়, তখন তা ‘বাঙ্গালাহ’তে রূপ নেয়; আরবি স্ত্রীলিঙ্গ চিহ্নসহ ‘আহ’ যুক্ত হয়। ‘বাঙ্গালাহ’ ব্যাকরণগতভাবে আরবিযুক্ত শব্দ, এটি বাংলা বা সংস্কৃত ব্যাকরণের ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে একটি কঠিন শব্দ। সুতরাং, আরবিযুক্ত ‘বাংলা’ শব্দটির অর্থ ভাষা, যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ব্যাং-আল-আহ’; আরবী ভাষায় স্ত্রীলিঙ্গ ‘লিসান’ এবং ফার্সিতে ‘জবান’, যার অর্থও ভাষা। এবং সময়ের সাথে এটি ‘লিসান বাঙ্গালাহ’ হয়ে যায় যা আদিবাসী  বাক্য ‘বাংলা ভাষা’ হিসাবে আখ্যায়িত হয়। যেহেতু এটি ‘বং’ এবং ‘আল’ হতে উদ্ভূত হয়েছে তাই ‘বং’ এর ‘আ’ এবং লা এর ‘আ’ বাংলা ব্যাকরণের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা যায় না।

 

এছাড়াও উল্লেখ্য যে, ‘বঙ্গা’ বাংলা শব্দ নয়; এটি ‘বং’-এর সংস্কৃতকরণ। এ কারণেই, কলকাতার ভদ্রলোকেরা উনিশ শতকে জনপ্রিয় হওয়া ‘বঙ্গ’ এবং ‘বঙ্গোপসাগর’ এর জন্য যথাক্রমে ‘বঙ্গদেশ’ এবং ‘বঙ্গোপসাগর’ এর সংস্কৃত পরিভাষা করেন নি এবং বাংলাদেশের (পূর্ব এবং উত্তর বাংলা) জনগণের শব্দভাণ্ডারের গভীরে যান নি। এই শব্দগুলো প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে শেখানো হয়। এছাড়া ‘বংগা’-এ ‘গা’-এর উচ্চারণের কোন বাস্তব অস্তিত্ব নেই, কারণ এই শব্দটি ‘বং’ অথবা ‘বং’ এবং ‘আল’-এর সংমিশ্রণ থেকে উদ্ভূত হয়েছে। ‘গা’ অনুষ্কারের অনুনাসিক চাপের মাধ্যমে উচ্চারিত হয়। যদি বংগা ‘বং’ থেকে উদ্ভূত হয় তবে ‘গা’ এর সংস্কৃতকরণের মাধ্যমে উত্থিত হয়। অন্যদিকে, যদি এটি ‘বং-আল’ থেকে উদ্ভূত হয়, তবে ‘গা’ অনুনাসিক-করণের মাধ্যমে উত্থিত হয়।

 

 

আল-বিরুনির ভারততত্ত্ব (Kitab al-Hind) নামক বইতে বংগা এবং উপবঙ্গা নামে দুটি বসতির উল্লেখ রয়েছে। এই বসতিগুলো ‘আঙ্গা’ এবং ‘কলিঙ্গ’ এর সাথে যুক্ত রয়েছে, যা ভারতের উত্তর-পূর্ব (অগ্নিকোনা) অংশে অবস্থিত বলে জানা যায়। সম্ভবত তিনি মহাভারত এবং মৎস্য পুরাণে লিপিবদ্ধ উচ্চ-ভারতীয় সূত্র থেকে নামগুলি নিয়েছেন। এগুলি সম্ভবত সমুদ্রের তীরে অবস্থিত ছোট ছোট এলাকা হতে পারে, যা বাঙ্গালার রাজ্য বা বাংলা ভাষার সাথে চিহ্নিত করা উচিত নয়। সংস্কৃত ‘বঙ্গা’র উপরোক্ত অর্থ ও তাৎপর্য সম্পর্কে History of Bengal বইতে দেখা যেতে পারে।

(প্রথম খণ্ড : ড. আর. সি. মজুমদার, পৃষ্ঠা ৩৩-৩7, ৩৩৮-৩৯ এবং ৫৬৩-৬৫ ;

মৎস্য পুরাণ প্রথম খণ্ড : ১০৪, দ্বিতীয় খণ্ড : ৫১, চতুর্থ খণ্ড : ২৯ ;

বিষ্ণু পুরাণ চতুর্থ খণ্ড : ৮-১ ; এবং অজয় ​​রায়তেও ;

বাংলা ও বাঙালি, খান ব্রাদার্স, ঢাকা, ১৩৭৬ বঙ্গাব্দ, পৃষ্ঠা ৫৫-৫৬, মহাভারতের কৌশলেও উল্লেখ রয়েছে)

 

পরিচালক জিয়া নাইয়ের পর্যবেক্ষণসমূহ

জিয়া নাই’র বাংলাদেশ-সম্পর্কিত চীনা কূটনৈতিক সংরক্ষণাগার থেকে প্রাপ্ত নতুন দলিলগুলির বিশ্লেষণের পুনঃব্যাখা সম্পর্কে তিনি বলেছেন (পাণ্ডুলিপি  আকারে চীনা পাঠ এবং এর অনুবাদ দেওয়া হলো): “ইসলামী যুগে চীন ও পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) মধ্যে যোগাযোগ পূর্বের চেয়ে অধিক ঘনিষ্ঠ হয়েছিল। তেরো শতকের প্রথমার্ধে চাও-জু-কু (Chao Ju-Kua) কর্তৃক সংকলিত Chu Fan Chih (বিদেশী রাজ্যের রেকর্ডসমূহ) নামক বইতে পেং-চিয়া-লো এর রাজত্ব সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা সম্ভবত আধুনিক বাংলায় ছিল।”

 

 

“১৩৪৯ সালে, চীনা পণ্ডিত Wang Ta-Yii দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দ্বীপপুঞ্জ এবং ভারত মহাসাগরের উপকূল বরাবর যে দেশগুলি পরিদর্শন করেছিলেন সেগুলি বর্ণনা করে Tao Yi Chih Lueh (দ্বীপ দেশসমূহের তথ্যসম্ভার) নামক একটি বই লিখেছিলেন, এর মধ্যে বাংলাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি এর (বাংলার) জলবায়ুকে ‘সর্বদা উত্তপ্ত’ (always hot) এবং বাসিন্দাদের ‘সৎ ও দানশীল’ (honest and benevolent) বলে প্রশংসা করেছিলেন।”

 

“১৪০৫ ও ১৪৩৩ খ্রিস্টাব্দের মাঝামাঝি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ভারত মহাসাগরের দেশগুলিতে বন্ধুত্বপূর্ণ ডাক দেওয়ার জন্য  চীনা মুসলিম CHENG HO-কে  বিদেশে সাতটি কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছিল। তিনি যে দেশগুলি পরিদর্শন করেছিলেন তার মধ্যে পূর্ববঙ্গও ছিল। Kung Chen, Fei Hsin এবং Ma Kuan- তার পুনর্বিবেচনার এই তিনজন জুনিয়র সদস্যের বর্ণনানুযায়ী, বাংলার রাজ্যের সমুদ্রবন্দরকে শে-তি-গান (Che-ti-gan) বলা হত (বর্তমান চট্টগ্রাম)। এই বন্দরে প্রবেশের পর তারা ছোট-ছোট নৌকা এবং পাঁচ শতাধিক পালতোলা নৌকায় স্রোতের বিপরীতে থেকেই So-na-erh-kang (সোনারগাঁও) নামক স্থানে নেমে দক্ষিণ-পশ্চিমে রাজধানী Pan-tu-wa (পাণ্ডুয়া) অভিমুখে যাত্রা করেছিল।”

 

“এই সমস্ত জায়গার নামগুলো একটি আধুনিক মানচিত্রে সহজেই চিহ্নিত করা যায়। চট্টগ্রাম এখনও বঙ্গ (বাংলাদেশ) এর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং সোনারগাঁও পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী (বাংলাদেশ) ঢাকা থেকে প্রায় এগারো মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।”

 

“গিয়াস-উদ-দীন আজম শাহের মাজার (১৩৮৯-১৪০৯) সোনারগাঁয়ে অবস্থিত, যিনি Cheng Ho’র সমসাময়িক ছিলেন এবং চীনে একটি কূটনৈতিক মিশন প্রেরণের জন্য  Ming রাজবংশের ইতিহাসে স্মরণীয়। পাণ্ডুয়া (বর্তমানে ফিরোজাবাদ) পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) পশ্চিম সীমানার ঠিক বাইরে অবস্থিত, যা তৎকালীন সময়ে বাংলার রাজ্যের রাজধানী ছিল। Kung Chen ও Ma Kuan-এর পর্যবেক্ষণ অনুসারে বাংলার সকল মানুষই মুসলিম ছিল।  লোকেরা সৎ ও দানশীল। যেসব ধনী লোকেরা বিদেশী দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য করার জন্য জাহাজ তৈরি করতো তাদের সংখ্যা ছিল লক্ষণীয়। Fei Hsin, বিশেষত, চীনা দর্শনার্থীদের উষ্ণ অভ্যর্থনা সম্পর্কে বিশেষভাবে উল্লেখ করেন।  সম্প্রতি Cheng Ho কর্তৃক প্রাপ্ত Ming রাজবংশে মুদ্রিত অসংখ্য টীকা (Sea-Charts) পুনরায় প্রকাশিত হয়েছে। চার্টগুলিতে প্রদর্শিত জায়গাগুলির মধ্যে চট্টগ্রাম এবং পূর্ব পাকিস্তান (বাংলাদেশ) এর আশেপাশের জায়গা রয়েছে।”

 

“সম্প্রতি প্রকাশিত Sailing Directions (নৌযান দিকনির্দেশনা), প্রায় ষোড়শ শতাব্দীর একটি পাণ্ডুলিপি, চীনের Fukien’র সমুদ্র বন্দর থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সমুদ্রপথের বিভিন্ন স্থানের কম্পাস বিয়ারিং, দূরত্ব ইত্যাদির বিষয়ে বিশদ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।”

 

“Ming রাজবংশের ইতিহাস অনুসারে, সম্রাট Yung-Lo’র রাজত্বের ষষ্ঠ বছরে (খ্রি. ১৪০৮) বাংলার Ai-Ya-ssu-ting (গিয়াস-উদ-দিন-আজম শাহ) নামক রাষ্ট্রদূত চীনা আদালতে এসেছিলেন। ১৪১২ খ্রিস্টাব্দে বাংলার একজন দূত সম্রাটকে তার শাসকের মৃত্যুর খবর জানাতে চীনে এসেছিলেন। চীনা সম্রাট প্রয়াত শাসককে আত্মত্যাগের জন্য একজন রাষ্ট্রদূত প্রেরণ করেছিলেন এবং সিংহাসনে উত্তরাধিকারী নতুন রাজা সাইফুদ্দিনের প্রতি সমবেদনা জানান। এর উত্তরে ধন্যবাদ জানিয়ে জিরাফ এবং দুর্দান্ত ঘোড়া উপহার দিয়ে একজন রাষ্ট্রদূত প্রেরণ করেন। ১৪৩৮ সালে, বাংলার রাজা চীনা সম্রাটের কাছে আরেকটি জিরাফ প্রেরণ করেছিলেন।”

 

“এসব হতে লক্ষণীয় যে, এই সময়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে খুব ঘনিষ্ঠ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ছিল। যেহেতু, জিরাফ বাংলায় ছিল না, সুতরাং তা সম্ভবত পূর্ব আফ্রিকার ইসলামী দেশ থেকে আনা হয়েছিলো এবং বাংলার রাজা তাদেরকে চীনা সম্রাটের কাছে উপহার হিসাবে প্রেরণ করেছিলেন। সমসাময়িক আদালতের চিত্রশিল্পী একটি জিরাফের চিত্র আঁকেন এবং চিত্রকর্মটির প্রাথমিক কপি বর্তমানে Museum of Chinese History, Peking-তে প্রদর্শিত হয়।”

(চলবে)

 

তথ্যসূত্র:

1. Hsia Nai : A Historical Sketch of the Friendship between China and Pakistan, peking, 1965, p. 165

2. Cf. Wang Ta-Yu : Tao Yi Chih Luch, annotated edition by Shen Tseng-Chih, Shanghai, 1912, Part II

3. Cf. Ching Ho-Sheng : Cheng Ho Yi Shih Hui Pein (A collection of Materials on Cheng Ho) Shanghai, 1948, pp. 151-52 ; Fei Hsin : Hsing Ch’a Sheng Lan (splendid Sights of the Starry Raft) annotated edition by Feng Ch’eng-Chun, peking, 1954, Part I, pp. 39-43 ; Ma Kuan : Ying Ya Sheng Lan (Splendid Sights of the Boundless ocean) annotated edition By Feng Ch’eng-Chun, peking, 1955, pp. 59-66 ; Kung Chin : Hsi Yang Fan Kus Chih (Records of the Foreign Countries in Western ocean), Peking, 1961, pp. 37-41.

4. Ibid, p. 16 : Cf Cheng Ho Hang Hai Tu (Sea Charts used in Cheng Ho’s Expenditions) annotated edition by Hsiang Ta, Peking, 1961, p. 56 and 60.

5. Cf. Liang Hai Tno Chen Ching (Two Kinds of Sailing Directions).

6. Cf. Chang Ting-Yu (ed.) Ming Shih (History of the Ming Dynasty), Book 326 ; `Records of the Foreign Countries”, Miniature Pai Na edition, p. 31791.

7. Cf. Hsia Nai : `China and Africa in Historical Friendship” China Reconstructs, No. 11, 1962, pp. 27-29.

 

মতামত
লোডিং...