বলেছিলে, চিঠি দিও || মহুয়া বৈদ্য

 

১.

এইসব ভূতজন্ম অনভ্যাস অক্ষরের ত্রাস

লিখে রাখি মৃদু মৃদু মহাকাল সময়-সন্ত্রাস 

 

২.

চিরজীবনের জন্য নীরবতা বিছিয়ে দিলাম

শীতলপাটিটি যেন প্রবল গ্রীষ্মের দাবদাহে

তোমাকে আরাম দেয় এইটুকু ইচ্ছে রয়ে গেল

 

৩.

সকাল সকাল উঠে মধুপর্ক হাতে নিয়ে যাই

মধুর জিহ্বায় যদি ঠুসে দিই আনন্দ আতর

লেপে দিই চন্দ্ররেণু এমন মোহন অঙ্গ, তোর

চন্দনে সাজাই মুখ, পার হই নদী সারাৎসার

দিবস রজনী যায় ক্রমে ক্রমে আঠারো বৎসর 

পূর্ণ হল এইবার সচেতন সাবালক শ্বাস 

বিশ্বাসের প্রতি খাঁজে সময়ের কুব্জ-ভার এসে

খসিয়েছে একে একে ঈষদুষ্ণ পাখির পালক 

লোলুপ মাংস-গন্ধ বিবমিষা ছড়িয়েছে তবু 

হাড়ের বাঁশরি কেন আনন্দিনী রাগিনী বাজায় 

 

৪.

উঝুমপুরের দেশে নিঝুমপুরের সেই মেয়ে

আনমনে তাকিয়েছে পরজ রাগের গান গেয়ে

দিন যায় মাস যায় কথার উপর জমে কথা

কথাই পাহাড় হয়, পাথরের ভুল সফলতা

তবু সেই পাথরেই ভালোবেসে লিখে রাখি নাম 

ক্ষয়ে যাওয়া সহবাস তোমাকে আদর পাঠালাম

 

৫.

অই দ্যাখো বাঁকা চাঁদ, হিম পড়ে ধুলোবালি মুখে

বরফ যুগের থেকে নামিয়েছি এই ডাকনাম

তবু যদি শারীরিক শীত শীত কাতর অসুখে

হেমন্তের রোদ মেখো, ধান্যের শপথ রাখলাম

মরাকাঠ ডালপালা বিস্তৃত এ শুষ্ক চরাচরে

সচন্দন পুষ্পগন্ধ ভাসিয়েছি মেঘলা সফরে

 

৬.

এই সেই ওষ্ঠ-ভার এই নাও অলক্তক-রাগ

এমন মেঘের দলে আশাতীত  ভ্রমণ পরাগ

শ্রাবণের অতিরিক্ত যদি কিছু ফেলে যাই, সাঁকো

নড়বড়ে। তুমি এই হালখানি সাবধানে রাখো

সাবেক জলের পদ্যে দিক ঠিক করে নিও চোখ

আকাশের ধ্রুবতারা খসে নামে অচিন পালক।

মতামত
লোডিং...