ঈদ || আশরাফ আলী খান || কবিতা

 

“ঈদের যে আর হপ্তাখানেক বাকী আছে তা কি মনে নাই?

নায়েব সাহেব, তপশীলে যাও, টাকা চাই ঢের টাকা চাই।

খোকা-খুকীদের জুতা ও কাপড়ে

কমের পক্ষে দু’শ’ টাকা গড়ে-

ওদের মায়ের একারই তিনশ’, কম নহে তার এক পাই;

শালা-শালী আর চাকর-বাকরে পাঁচশ’ বাজার-খরচাই।”

 

নায়েব নিলেন দাখিলার বহি, লাঠিটা লইল পেয়াদা;

পাঁচশত আজ আনতেই হবে, না-ও যদি হয় জেয়াদা।

পাড়ায় পাড়ায় পড়ে গেল হাঁক,-

“ওরে রে সলিম, ডাক সবে ডাক,

সারা বছরের খাজনা বাবদ যত টাকা আছে বে-আদা,

সব যদি শোধ না দিতে পারিস, আজিকার মত দে’ আধা।”

 

দয়ালু নায়েব সময় দেছেন তিনটা দিবস কুল্লে,

কাহারো ভিটার থাকিবে না মাটি জমিদার রাগে ফুললে।

ভয়ে ভয়ে কেহ হালের গরুটা

বেচে ফেলে দেয় সিকি দামে ঝুটা,

কেউ বা তাহার গোলার ধন্যি বেচে ফেলে অধিা মূল্যে;

খাই বা না খাই, টাকা দিতে হবে, চলিবে না তাহা ভুললে।

 

সাঁঝের আকাশে দেখা দেয় চাঁদ, ঘরে ঘরে লাগে ধুম,

সারারাত ধরি’ চলে উৎসব, কারো চোখে নাই ঘুম।

মওলভী কন্ : “আল্লার শান্,

ঈদে হয় তাজা সকলের প্রাণ!”

প্রজা কেঁদে কয়-“ঈদের জুলুমে মরিল গরীব মজলুম।”

“ঈদ একেবারে ব্যর্থ হইল”-আল্লা ভাবেন হয়ে গুম্॥

 

(আশরাফ আলী খান রচনাবলী : হেলাল মুহম্মদ আবু তাহের সম্পাদিত, বাংলা একাডেমি, ১৯৮৯, ১৫৮ পৃষ্ঠা থেকে সংগৃহীত।)

মতামত
লোডিং...