ঈদ-স্মৃতি || আমার ঈদকথন || মুহাম্মদ মাহফুজুল আলম

ঈদে সালামী নিতে নিতে কবে যে সালামী দেয়ার বয়স হয়ে গেছে তা ভাববার যথেষ্ট অবসর থাকলেও না ভাবলেই যেন হাফ ছেড়ে বাঁচি। কারণ, বাচ্চাকালের সেই সালামীর ঝংকার যেন স্কুলের ছুটির ঘণ্টার চেয়েও মধুর। এখন আর লাল টকটকে পাঞ্জাবীতে সৌন্দর্য খোঁজে পাই না। লাল পাঞ্জাবীর জন্য ট্রেনের হর্নের মতো গলা ছেড়ে দিতাম, সেটা শোনে গোয়ালের পশুরাও ভয় পেত। এখন নাকি সেই লাল-হলুদ পাঞ্জাবী পড়লে আমাদের ক্ষ্যাত ক্ষ্যাত লাগে। অথচ যখন লাল পাঞ্জাবী পড়তাম তখন ক্ষ্যাত শব্দটাও আমার কান অবদি পৌঁছেই নি। তখন সে লাল পাঞ্জাবীর সুনাম শুনে আমার গালজোড়া যেন আরো বেশী রক্তিম হয়ে উঠত। লাল পাঞ্জাবী পরা অবস্থায় আমার ফিক করে দেয়া মুখের হাসিতে মুগ্ধ হয়ে কতজন যে জামাতা বানানোর ওয়াদা করেছিল, তাদের অস্তিস্ত যদি আজ পর্যন্ত থাকত বৈকি! তবে এখন শত ঝঞ্ঝাট মোকাবেলা করে সহস্র ফর্মালিটি মেইনটেইন করে মিথ্যে হাসির আড়ালে তাদের খোঁজার যথেষ্ট আগ্রহ থাকলেও মন সায় দেয় না। পাছে কৃত্রিম হাসির অকৃত্রিম ক্ষতি না হয়ে যায়। তখন সেই লাল নীল ড্রেস পড়ে পরীর মত ঘুরে বেড়াতাম, থুক্কু পরী তো মেয়েরা হয়! মেঘের মতো ঘুরে বেড়াতাম, দিগ্বিদিক। হঠাৎ করে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে কারো পায়ে পতিত হতাম, গায়ে পড়ার জো নেই। সালামী নিতে হবে যে!!  ঈদের দিনে বৃষ্টি পড়া মোটেও সুখকর না হলেও, ওনারা আনন্দচিত্তে সালামী দিতে কার্পণ্য করতেন না।
ঈদের দিনে বৃষ্টির কথা শুনতেই রুমন্থিত হতে ইচ্ছে করছে সুমধুর স্মৃতির ক্যানভাসে। সেখানে মোনালিসা ফুটে না উঠলেও আমার কাটানো অবিস্মরণীয় একটা ঈদের গল্প যে ফুটে উঠবে সেটায় সন্দেহ নাই। বৃষ্টি আর ঈদ যেন একই পথের অভিযাত্রী। যদিও পূর্বে বলেছি, ঈদের দিনে বৃষ্টি পড়াটা সুখকর নয়, এখন স্ববিরোধী গল্পটা বলি। ঋতুবৈচিত্র্য আর চন্দ্রবার্ষিকীর আবর্তন বিবর্তন ব্যতিরেখে ঈদ আর বৃষ্টি যেন বিচ্ছেদে হারানো প্রেয়তার সাথে পুনর্মিলনের নেশায় মত্ত। বলতে যাচ্ছি, এমনই এক ঈদ আর বৃষ্টির রসায়নে রচিত এক সপ্রতিভ স্মৃতির কথা। ঈদের নামাজ পড়ে উষ্ণ কর্মদন আর মিষ্টান্নের স্বাদ নিয়ে যেমন সবাই উৎকলিত তেমনিভাবে বিধবার চোখের জলের মতো বৃষ্টির স্বগর্ব অবদানে পুকুরের মাছেরাও ঈগল হয়ে আকাশ বিচরণ করতে চায়। তো উড়ন্তমনা সেই পুকুরের মাছগুলোকে পাতে আনার পরিকল্পনা আসতেই যেন সবাই ভিন্ন স্বাদের ইদ পালনে স্বরব। পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ, জাল নিয়ে নেমে পড়ল পুকুরে। আমার জাল নিয়ে পুকুরে নামার সেই শক্তি সামর্থ্য কোনোটা না থাকলেও মুগ্ধ নেত্রে সুশীলচিত্তে মাছের হাসি দেখার সুযোগটা আছে। তবে কাতলের সুদীর্ঘ ফালির হাসির চেয়েও মুগ্ধ করেছে যে মাছটি ধরেছে তার হাসি। মাছগুলোকে কাঁচা বন্ধি করে ভাগ বণ্টনের সময় সবার মুখের হাসিটা, সদ্য বৃষ্টির থামার পর সূর্যমামার এক ফালি রোদের চেয়েও যেন মুগ্ধকর।
যাই হোক, ঈদানন্দ কখনো শিল্পীর কলম আর পেন্সিলে আঁকা সম্ভব নয়। সবার ঈদ হোক অনাবিল আনন্দের এই কামনা।
মতামত
লোডিং...