ঈদ-স্মৃতি || ছোটবেলার ঈদ || কানিজা আক্তার 

ছোটবেলার ঈদের স্মৃতি বলতে- কখন টিভিতে ঘোষণা দিবে যে চাঁদ দেখা গিয়েছে আগামীকাল ঈদ। তারপর টিভিতে সেই চিরচেনা গান শোনা, “ও মোর রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”…
তারপর গান শুনতে শুনতে হাতে মেহেদী দেওয়া। নিজে তো ডিজাইন পারতাম না, বাকিদের জ্বালিয়ে মারতাম।
সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠা। কেন জানি তখন এমনিতে সকালে ঘুম ভেঙে যেত। হয়তো আনন্দ উত্তেজনার কারণে। তাড়াতাড়ি গোসল করে নতুন জামা পরতাম, সাজুগুজু করতাম। তারপর অপেক্ষা করতাম কখন বাবা-কাকারা নামাজ পরে আসবে, তাদের থেকে ঈদের সালামি নিবো। সবার আগে দাদিকে সালাম করে ঈদের সালামি আদায় করতাম। কত মধুর ছিল সেই দিন। আজ দাদি বেঁচে নেই, আর ওইভাবে সালামিও আদায় হয় না।
সালামি আদায় করে সেমাই, পায়েস মোটকথা আম্মু যা রান্না করতেন তা একে একে খাওয়া। সেদিন মনে হয় সব খেয়ে ফেলবো এমন ভাব। অথচ অল্প খেয়ে আর পেটে জায়গা হতো না।
বান্ধবীরা আসতো বাসায়, আমিও তাদের বাসায় যেতাম। কত ঘুরাঘুরি, হাসাহাসি। এসব আনন্দ এখন কোথায় হারিয়ে গেছে?
বিকেল থেকে অপেক্ষা করতাম টিভিতে কি কি প্রোগ্রাম দিবে। কোনটা দেখবো। রাতে বসে সালামির হিসেব গুনবো। কে কত টাকা পেল।
আমি হয়তো একদম সাধারণভাবে লিখেছি। জানি না বুঝতে পারবেন কিনা। কিন্তু তখনকার আনন্দটা ভুলবার মত না। অন্যরকম এক আনন্দ ছিল।
আমাদের বাড়িতে দাদি মারা যাওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে সে আনন্দ কোথায় যেন মিলিয়ে গেলো। এখন সেই আনন্দ, সেই উত্তেজনা আর নেই। মনে হয় সব আনন্দ মরে গিয়েছে।
এখন ঈদে নতুন জামা পরতেও ইচ্ছে করে না। সাজুগুজু তো দূরে থাক।
মতামত
লোডিং...