ঈদ-স্মৃতি || ঈদ আসে, ঈদ যায় || মুবিন লিখন

ঈদস্মৃতির কথা ভাবলে মানসপটে সুন্দর কিছু ছবি ভেসে ওঠে। পুরনো পাকিস্তান আমলের বাড়িটায় খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে যেতাম। গোসল সেরে উঠোনে গিয়ে দেখতাম অসংখ্য নারী-পুরুষ ভিড় করে আছে। বাবা কোরআন তেলাওয়াত শেষ করে তৈরি হতেন জামাতে যাওয়ার জন্য। এর মধ্যেই উঠোনের ভিড়টাকে যথাসাধ্য সন্তুষ্ট করার চেষ্টা করতেন যাকাত-ফিতরার টাকা দিয়ে। কেউ কেউ বোধহয় একাধিকবারও টাকা নিয়ে যেতো। এতকিছু খেয়াল করার সুযোগ কই?

আলোর তেজ আরেকটু বাড়তে শুরু হলে আমরা প্রস্তুত হতে শুরু করতাম ঈদগাহে যাওয়ার জন্য। এ এক অন্যরকম অনুভূতি। ঈদগাহে খোলা মাঠে নামাজ যারা কখনো পড়েননি, এ অনুভূতি থেকে তারা নিশ্চিতভাবেই বঞ্চিত হয়েছেন।

মাঠের একপাশে বাড়ির ছেলেরা বসতো ছোট ছোট দোকানে পণ্যের পসরা সাজিয়ে। এক টাকার চকোলেট থেকে শুরু করে চিপস, আচার এমন অনেক কিছুই এসব ভাসমান একদিনের দোকানগুলোতে পেতাম। নামাজ শেষ করার পরে তাই এসব দোকানেই আমাদের বয়সী ছেলে-মেয়েদের ভীড় লেগে থাকতো। `মেয়ে’ শুনে অবাক হওয়ার কিছু নেই। বাবার হাত ধরে কিংবা ভাইয়ের সাথে একটা বয়স পর্যন্ত মেয়েরাও এ ঈদগাহে আসতো।

ঈদস্মৃতি বললে আরো কিছু মজার ব্যাপার চলে আসে মনে। চাচাতো ভাই-বোনেরা মিলে প্ল্যান করতাম পাড়ার ঠিক কোন ঘরটাতে গেলে ঈদ সালামি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশী। সে প্ল্যান মতো গিয়ে খালি হাতে হতাশ হয়ে ফেরার অভিজ্ঞতাও আছে। তবে সব ঘর থেকেই যে খালি হাতে ফিরতাম এমন না। সালামি নিয়ে মজার একটা ঘটনা ঘটেছিল আমাদের বাড়ির বেশ খানিকটা দূরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে। বোধ আসার পর থেকে যতটুকু মনে ছিল সে অনুযায়ী আমরা খেয়াল করছিলাম যে এই আত্মীয়ের বাড়িতে ঈদ সালামির পরিমাণ প্রতিবছর বাড়ে। দশ টাকা, বিশ টাকা করে একবার বোধহয়  ত্রিশ টাকাও পেয়েছিলাম। তো এক ঈদে আমরা কাজিনরা ভীষণ আশাবাদী হয়ে উঠেছিলাম যে এইবার যেহেতু আরো বড় হয়েছি, টাকার অংকটাও বোধহয় বেড়ে যাবে। দুঃখজনক বিষয় হলো সেবার এক টাকাও পাইনি। বড় হতে হতে বোধহয় সালামির রেঞ্জের বাইরে চলে গিয়েছিলাম!

এসব নিয়ে লিখতে গেলে নিজের অজান্তেই হেসে ফেলি। ঈদ আসে, ঈদ যায়। সেই পুরনো দিনগুলো আর পাওয়া হয়ে উঠে না।

মতামত
লোডিং...