ঈদ-স্মৃতি || ছেলেবেলার ঈদ || ফারহানা সুমি

ছোটবেলার ঈদ খুব মনে পড়ে। ছেলেবেলা পেরিয়ে এসেছি অনেক আগেই। যখন ছোট ছিলাম, রমজান মাস জুড়ে শীত থাকতো। কনকনে ঠাণ্ডা শীতের রাতে সেহেরি খাওয়ার জন্য জাগার অনুভূতিটা ছিলো অন্যরকম। যা এখন অনুভব হয় না। কম্বল মুড়িয়ে শুয়ে থাকা, মায়ের বারবার ডাকাডাকির পর আজান হয়ে যাবে তাই খেতে উঠা, ধুয়া উঠা গরম ভাত ঘি দিয়ে খাওয়া সবকিছু এখন মধুর স্মৃতি হয়েই রয়ে গেলো। ঈদের জামা কিনে লুকিয়ে রাখা। সবাই দেখলে পুরাতন হয়ে যাবে বলে। অথচ নিজে গিয়ে গিয়ে বার বার দেখা আর অপেক্ষা এই জামা জুতা কখন পরবো! মধুর ছিলো অপেক্ষা আর উত্তেজনাগুলো।

ঈদের চাঁদ দেখা নিয়ে চলতো প্রতিযোগিতা। আগে চাঁদ দেখাটা যেনো বড্ড বাহাদুরির ব্যাপার সমবয়সীদের মধ্যে। আমাদের বাড়ির পশ্চিম পাশে পুকুর আর পুকুরের পরই বিশাল জমি। সেখানেই বাড়ির বড় ছোট সবাই জড় হতাম চাঁদ দেখার জন্য। চাঁদ দেখেই জমির খড়কুটো সব একত্র করে সেখানে আগুন ধরিয়ে দিতাম। এখনের মতো বাজি, ফটকা ফুটানো হতো না। কিন্তু অতটুকুতেই অনেক আনন্দ করতাম সবাই। মজা লাগতো এজন্যেই যে বড়রাও বাধা দিতো না। ছোটদের সাথে বড়রাও সবাই ঘণ্টাখানেক সেখানেই খোশগল্পে মেতে উঠতো।

এরপর মেয়েদের হাতে মেহেদী দেয়ার প্রতিযোগিতা। আনন্দ উত্তেজনায় রাতটায় ঘুমই আসতো না ঠিকমতো। এদিকে কাঁকডাকা ভোরে ঠিকই ঘুম ভেংগে যেতো। সকাল সকাল গোসল করা, প্রত্যেকের ঘরে গিয়ে সালাম করে সালামি নেয়া, কে কত বেশি সালামি পেলাম তার হিসাব করা বার বার।

ঈদের নামাজের জন্য সীতাকুণ্ডে বিশাল স্কুলের মাঠে আলাদাভাবে আয়োজন করা হতো। আর সেই নামাজের জায়গার চতুর্পাশে মেলার মতো বসতো নানা ফেরিওয়ালা। পুরুষরা নামাজ পড়লেও অনেক ছোট ছোট মেয়েরা যেতো বাবা বা ভাইদের সাথে ঘুরতে, এটা সেটা কিনতে। আমরা ছোটবেলায় সেটাকে বলতাম “ঈদে যাওয়া”। যেবার ঈদে যেতে পারতাম সেবারের ঈদটা সার্থক। নয়তো ব্যর্থ মনে হতো সব।

ঈদের পরের তিন চার দিন থাকতো না কোন পড়ালেখা যা আনন্দকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিতো। আরও যে কত কত সুখ স্মৃতিতে ভরপুর শৈশবের ঈদ!

মতামত
লোডিং...