জহির খানের একগুচ্ছ কবিতা || সাহিত্য সওগাত

 

ফানুস উৎসব থেকে বলছি

শাদা কালো ফ্রেমে আমরা পাতাদের গান করি
দেখি শৈশবের দৈত্যদের বেভুল অসতর্ক প্রেম
দেখছি তুই তুমি আপনি সময় সতর্কে কৌশল
ভাবছি পাখাঝাপটায় সম্পর্ক কতোটা অসহায়
দেখছি সোনালী ফুল রোদ বৃষ্টি হচ্ছে অনবরত
দেখি শরীরের আড়মোড়া ভাঙন গতিবিধি স্বর
শুনছি হাওয়াদের কামছলা অতীত কথার গল্পে

অতঃপর তাহারা সুখে-শান্তিতে
সহবাস বসবাস চাষবাস করছেন
প্রাগৈতিহাসিক সময় ধরে

এখন
দেখি এইসব মৃত ফানুস উৎসব অনুষ্ঠান

 

 

এমন কিছু কথা বলছি প্রতিনিয়ত
(উৎসর্গ- প্রিয় বন্ধু লিটিল)

 

বন্ধু আমার মায়ায় জড়িয়ে থাকো… থাকো
এই হবে বন্ধু আমার পূর্নতা পুজো… প্রার্থনা
কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা অবিরাম আমার
আসো পড়াই পড়ি আমরা অর্ধেক জীবনকসাই খানায় আঁকি অর্ধেক জীবন ছবি
কাল্পনিক অস্তিত্বের জন্যই অপেক্ষা করিকথা ছিলো কোন একদিন…
পূর্নিমার আলো চুরি করবো
চুরি করবো ঘাসফুলের গন্ধ
কিছুই হলো না কিচ্ছুতেই নাবাক্সবন্দি হয়ে মিউজিয়ামে গেলো পূর্নিমার আলো
ঘাসফুলের গন্ধ ছড়িয়ে পড়লো কারো কারো গায়ে

 

স্বকীয়তা হারিয়ে

 

ঝড়ের বেগে চলছে সময়
অসমাপ্ত গল্পের পিছনে
তবুও নিষ্ঠুর গল্পের নায়ক
দেখার চেষ্টাই করলো না
তোমাকে

 

 

বিগলিত দৃশ্যপট

 

বুক পকেটে নিয়ে হাঁটি চৈত্রের দুপুর
দৃশ্যত এক কবিতা হবে প্রিয় সময়
তাহারা যাত্রার বিকেল হয়ে ফিরবে
বা নাই ফিরে আসুন আর এই তল্লাটেদুপুরের সুমিষ্ট ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ুক পাড়ায়
গলির মুখ থেকে বেড়িয়ে আসুক কবি
টিউব টাইপ সন্ধ্যায় নেমে আসুক পাহাড়এখন
পাতারা ভুলে বসুক দীর্ঘ এক ছায়াশরীর
ফেকহী কিতাবাদী আলোর মুখ-
ধরে রাখি খা খা রোদ পরস্পরে

 

বিজুলী আলোক

 

যায় সেই আরো এই একটি নতুন পৃথিবীর মায়া
গায়ে পায়ে নিয়নের আলো পড়ে মনে পড়ে যাপন
মনে করে নেয় দেয় মায়ামেঘ ধুলিমাখা উঠোনলাল এক দীর্ঘ চিন্তা উড়ে যায় সেই- আকাশকালোজামা পড়া বণিকের ফার্ম হাউজের চাপ
নিলাম হয় মানুষের ভিতরের মানুষ আর চিন্তাএকজোড়া ডায়নোসর বাবার পিঠে উঠে উঠুক
জল তৃষ্ণায় ক্লান্তিতে বেঁচে থাক- থাকুক মুখ

দিন মাস বছর কতো কথা বেঁচে থাকে তাহলে

এখন প্রমিথিউস তীব্র প্রতিবাদ হয় মানুষ হোক
বটবৃক্ষকে সামনে রেখে এগুতে পারি ঠিক ঠিক

 

জঠর অনুরাগ

 

ওরে বাতাস ধমক চিরচেনা আহ্লাদিত সুখ
উড়ে এসে জুড়ে নেয় উত্তাল ছায়ামাঠ
ধরে রাখে একবুক নীরব ঘোর- উত্তরেরবসে থাক তুই তোর পূবের মায়া- পূরাণ
অচল মুদ্রার থলে হাতে চৌরাস্তায়রাতবিরাতে দেখ হাতপাখা ঝড়- হাওয়া
সুনিদ্রায় যাক চৈত্রের ঘুম পরিপাটি বিছানায়
চলে যাক কান উড়িয়ে নেয়া এক অসুখ রাতমাগী পশ্চিমে যাত্রা শুভ হোক কাল
এরপর দক্ষিণ দিকের হাওয়ায় বাড়ুক হাসুক
যত্রতত্র এক গভীর ঘুমে প্রিয়তুর জরায়ুর মুখ

 

বংশী নদী

 

শহরের বহু বণিক নদী ইতিহাস বুঝে না
অংকে জাহাজ বটেএখন জলের দাম দুধের দরে সুদের হারে যাচ্ছে
বণিক কেবল নিজের জন্য ভূমি নিয়ে ভাবছেও বন্ধু আমার বংশী নদী তোমায় নিয়ে ভাবছি
কোথায় তোমার গহীন জল কে নিলো কেড়ে
দেখছি তোমার কোমলপ্রাণ নীতিবাদী দলতোমাকে দেখার নেই কেউ নেই- হায় আফসোস

আজ জল ও সুরের গল্প আমরা করতেই পারি
উইকিপিডিয়া পড়ি ড্রয়িং ক্লাস করি- তুমি

ওগো ঘুমিয়ে পড়ো কোমল মাটি- অসুর দেবতাগণ
আমি না হয় জেগে থাকি ঠাঁই পারাপারের অপেক্ষায়

 

 

মতামত
লোডিং...