কবিতা || নজরুলকে মনে করে : আহসান হাবীব ||

 

 

কী অসহ্য উজ্জ্বল এবং দুর্বার তােমার উপস্থিতি আমার জীবনে!

তোমাকে উত্তীর্ণ হবো এ আশায়

আর উত্তরকালের এক প্রতিনিধি হবো এ আশায়

আমি কৃচ্ছসাধনার প্রতীক।

বালখিল্য মত্ততায় কখন হঠাৎ

সব আলো নিবিয়ে পথে একাই অগ্রসর হয়েছি

এবং ভেবেছি

আমি এক স্বনিভর আলোর জগৎ।

 

 

অথচ তোমার কিংবা তোমার কালের সবচিহ্ন মুছে দিয়ে

যখনই সম্মুখে এগিয়েছি

মুখােমুখি হয়েছি এক অন্ধকার আকাশের

আর শূন্যতার।

এবং পশ্চাতে ফিরে তাকিয়েছি

দেখেছি স্তব্ধ ইতিহাসের শিখা জ্বলে আর নেভে

আর আমার মগ্নতার লজ্জা ঢেকে দেয়

তার আলোর দাক্ষিণ্য তখন।

 

 

এবং বারবার তবু তাকে অস্বীকার করেছে এক

অনভিজ্ঞ মনস্বীতা

ভেবেছে কোথাও কোন অবিনশ্বর নদী নেই।

আমিই আমার নদী

আর তার গর্ভে মুক্তো অজস্র কুড়াবো

কীর্তি রেখে যাবাে অনন্য।

দুর্বল আমার প্রতিরােধ ভেঙেছে

অবিনশ্বর সেই নদীটি পাশে পাশে বয়ে গেছে

আমাকে দিয়েছে সঙ্গ আমার অজ্ঞাতে।

 

 

অতঃপর আজ জানি

তুমি আর তুমি যাদের সঙ্গী হয়ে এগিয়েছো

তাদের এবং তারা যে নদীর সঙ্গী

তার সঙ্গ থেকে মুক্তি নেই আমারো।

 

 

তােমাকে ভুলতে গিয়ে বারবার পড়বে মনে

আমার কৈশোর আর সমগ্র যৌবন ঘিরে

তােমার নায়কমূর্তি

যে আমাকে নায়কের অহঙ্কার অর্জনের স্বপ্ন দিয়েছিলো।

 

 

ভুলবাে না সে নদী

যার ঢেউ ঊষাকালে আমাকে নিয়ে গেছে কলগান,

খর রৌদ্রে দিয়েছে শান্তির সুধা ;

আর দু’তীরের শ্যামল ছায়ায় আশ্রয়ের আশ্বাস।

 

 

তুমি আর তােমার আমার আর সকলের সেই নদী

অমর্ত্য সেই-নদী

উজ্জ্বল দুর্বার হয়ে নিত্য করবে ঘোষণা

তার উপস্থিতি এ-জীবনে এই জানি!

 

[নজরুলকে নিবেদিত কবিতাগুচ্ছ : বাংলা একাডেমি, ১৯৮৩- গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।]

 

মতামত
লোডিং...