কবিতা || নজরুলের চোখ : ফরহাদ মজহার ||

 

রেডিওএকটিভ চোখ, হয়তাে তারা চোখ নয় নিতান্ত পাথর
নষ্ট বিপ্লবের মতো জানুভাঙা কিন্তু ক্রোধে সর্বস্ব সতেজ,
তরমুজ ফলের মতাে উৎপূর্ণ – কেটে ফেললে ঝলসাবে লাল
ঈষৎ ক্ষরণ হবে আঠাল শব্দের রক্ত লুটাবে ভূতলে।

 

যা কিছু বলার থাকে বলতে পারো না। প্রতি পলে
বাক্যে ও চিত্রে তুমি গ্রেফতার হয়ে যাও ; অস্ফুট গুঞ্জনে
শুধু প্রতিবাদ করো। প্রতিবাদে রাষ্ট্র ভেঙে যায়
কিন্তু শব্দ অভঙ্গুর — অভঙ্গুর তোমার গ্রেফতার!

 

সমগ্র শরীরে তুমি শব্দ ও সমুদ্রে ভরা। তুমি কি জাহাজ?
তাহলে চলো না কেন, ভেঁপু কই? মন্দ্রিত ভেঁপু!
স্থির জলে স্থির হয়ে সর্বস্ব সুস্থির তুমি ; শুধু দুটো চোখ
জলের ওপর থেকে জলের ভেতর অব্দি কিরণ বর্ষায়!

 

এই সেই সুস্থিরতা? নিষ্পলক নিজস্ব আঁধার?
সত্যি কি সুস্থির তুমি যে স্থিরতা আমারও বাসনা?
কিংবা যেই অস্থিরতা অতিশয় মানবীয়, সে রকম তুমি
ভীষণ অস্থিরভাবে নিজের বিরুদ্ধে নিজে চক্রান্ত করেছাে।

 

কে কবি কখন কবে সম্পূর্ণ হয়েছে ; তুমি তাই
ভাঙাচোরা, খসে যাচ্ছো পলেস্তারা ওঠা টেকো মাথা।
শুনেছি অসুস্থ তুমি। এ অসুখ কবিতার নাকি
কবির কিংবা শুধু মানুষের মতোন অসুখ?

 

চোখ তবু ভরে আছে শব্দ ও সমুদ্রের ঘ্রাণে স্ফটিক সংকুল
হয়তাে তারা চোখ নয়- অস্থির মাংসসহ সমস্ত পাথর
তবু চোখে চোখ রেখে তোমাকে যখন দেখি আমার দুচোখ
শব্দ ও সমুদ্রের ঘ্রাণে ভরে ওঠে। তোমার ও চোখ
জ্যান্ত পাথরের মতো মানবীয়, বড়াে বেশী রেডিওএকটিভ?

 

 

মতামত
লোডিং...